নিবন্ধন জটিলতায় পিছালো রূপপুরের জ্বালানি লোডিং

নিবন্ধন জটিলতার কারণে আগামী ৭ এপ্রিল নির্ধারিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন।
এর আগে ১৪ মার্চ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ৭ এপ্রিল থেকে এই কেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে, যা দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
উৎপাদন পরিকল্পনায় কিছুটা অনিশ্চয়তা
সরকারের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুন-জুলাই মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা করা হয়েছিল। তবে ফুয়েল লোডিং স্থগিত হওয়ায় এ সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, প্রকল্পের একটি ইউনিট ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।
জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের আলোচনা চলছে।
তবে এই সহযোগিতা বাস্তবায়নে কিছু আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজনিত বিষয়গুলো। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
বিদ্যুৎ নিরাপত্তায় সরকারের অগ্রাধিকার
সরকারের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সে লক্ষ্যেই দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় গ্রিডে নতুন সক্ষমতা যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এ ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রমের নতুন সময়সূচি কবে ঘোষণা করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।