রামগতিতে মেঘনায় ভ্রাম্যমাণ ভাসমান হাসপাতাল চালু

লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় উপজেলা রামগতি উপজেলা-র মেঘনা নদীতে চালু হয়েছে একটি ভ্রাম্যমাণ ভাসমান হাসপাতাল।
উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের যোগেশ মাঝির খেয়াঘাট সংলগ্ন মেঘনার তীরে নোঙর করা এ হাসপাতাল থেকে চরাঞ্চলের সেবাবঞ্চিত মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের অর্থায়নে দেশটির প্রয়াত বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ-এর নামে পরিচালিত হাসপাতালটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন মাস টানা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলবে। প্রতিদিন চরাঞ্চলের অন্তত ২০০ জন মানুষ এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
হাসপাতালটিতে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় ছোট-বড় অস্ত্রোপচারসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। নদীভাঙন, দূরত্ব ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য এ উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, আগে সামান্য অসুস্থতার চিকিৎসার জন্যও নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা বা জেলা সদরে যেতে হতো। এতে সময় ও অর্থ ব্যয় হতো বেশি। এখন নিজ এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভাসমান এই হাসপাতাল কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। তিন মাসব্যাপী এই কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।