সাত দিনের মধ্যে বরখাস্ত থেকে পুনর্বহাল তবিবুর রহমানের রহস্যঘেরা কাহিনি

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তবিবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত এবং মাত্র সাত কর্মদিবসের মধ্যে পুনর্বহালের ঘটনায় প্রশাসনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এর দুই দিনের মধ্যে, ১২ এপ্রিল তবিবুর রহমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। সেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুনঃতদন্তের দাবি জানান এবং বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন।
পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল একই সচিবের স্বাক্ষরিত আরেক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী প্রমাণিত হয়নি। ফলে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পূর্বের পদে পুনর্বহাল করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, তার বরখাস্তকালীন সময়কে কর্মকাল হিসেবে গণ্য করা হবে।
এই অতি স্বল্প সময়ে তদন্ত সম্পন্ন, প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম, প্রতিবেদন বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা, তদন্ত ও আপিল নির্দিষ্ট ধাপে সম্পন্ন হওয়ার কথা। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়া স্বাভাবিক নয়। তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারি কর্মচারীর পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা আচরণবিধির পরিপন্থী হতে পারে।
তবিবুর রহমান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুটি বড় প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এর মধ্যে একটির বাজেট প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। অতীতে এসব প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ ওঠে। সরকারি বিভিন্ন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রধান প্রকৌশলী ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পুনর্বহালের পর অধিদপ্তরে স্বস্তি ও আলোচনা দুটোই দেখা গেছে। কিছু কর্মকর্তা বিষয়টি উদযাপন করলেও ভেতরে ভেতরে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ ও প্রশ্ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সাত দিনের ব্যবধানে বরখাস্ত থেকে পুনর্বহালের এই ঘটনা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।