শিশুদের হাম হলে বাসায় করণীয় ও সতর্কতা

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে র্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠা—এগুলো হামের প্রধান লক্ষণ। রোগটি জটিল আকার নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা অন্যান্য সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। তাই আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকরা বলছেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে প্রথমেই আলাদা ঘরে রাখতে হবে যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে। তবে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়। শিশুকে পর্যাপ্ত পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন খিচুড়ি, স্যুপ বা নরম খাবার অল্প অল্প করে বারবার দেওয়া ভালো। চোখ লাল বা সংবেদনশীল হলে পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। শরীর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি, তবে খুব ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা উচিত নয়।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। যেমন—শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত জ্বর, খিঁচুনি, শিশুর খাবার বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, হামের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ (MMR ভ্যাকসিন)। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করলে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।