টিকা সংকটে হামের বিস্তার—জনস্বাস্থ্যের জন্য সতর্ক সংকেত

বাংলাদেশে হামের বিস্তার এখন আর সাধারণ কোনো স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নয়, বরং একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যে সতর্কবার্তা দিয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। টিকাদানের ঘাটতি, দীর্ঘদিনের কর্মসূচিগত দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ের নজরদারির অভাব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে রোগটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, বাংলাদেশে এক সময় টিকাদান কর্মসূচির সফলতার কারণে হামের মতো রোগ প্রায় নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকার ঘাটতি, সময়মতো সম্পূরক টিকাদান না হওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার দুর্বল সমন্বয় সেই অর্জনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ঢাকা, চট্টগ্রামসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণের বিস্তার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে—শহুরে বস্তি ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। এটি শুধু স্বাস্থ্য নয়, সামাজিক অসমতার দিকও তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত টিকাদান অভিযান জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা অনুযায়ী, টিকাদান কভারেজ ৯৫ শতাংশের নিচে থাকলে এই ধরনের সংক্রামক রোগ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। তাই কেবল কর্মসূচি ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নের কার্যকারিতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এই অবস্থায় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ জনগণ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে অবহেলা শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
হাম এখন কেবল একটি রোগ নয়, এটি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও সক্ষমতারও পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে দ্রুত, কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।