শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রাজধানীর জোয়ারসাহারায় চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট মতভেদ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, জাতীয় ঐক্যে জোর প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা পুরস্কার দিতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান জিরো এমিশন ইস্যুতে বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী লো-ফিডে উৎপাদন অব্যাহত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের নিয়ন্ত্রণে কড়া সমালোচনা উইজডেনের অনলাইন ক্লাস না চাইলেও বাস্তবতায় বাধ্য: শিক্ষামন্ত্রী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত গিরিশ চন্দ্রের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর হাসনাতের সঙ্গে কী হয়েছিল বিস্তারিত জানালেন মনজুর আলম
  • শূন্য পদের পাহাড়, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রশ্ন

    শূন্য পদের পাহাড়, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রশ্ন
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশের সরকারি প্রশাসনে ৪ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য—এই তথ্য কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং রাষ্ট্রের সেবা প্রদানের সক্ষমতার ওপর এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই জনবল সংকট নাগরিক সেবাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতিতে কি দ্রুত নিয়োগ জরুরি? বাস্তবতা বলছে—হ্যাঁ, জরুরি। তবে একই সঙ্গে জরুরি হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুণগত সংস্কার।

    দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদে নিয়োগ বিলম্বিত হওয়ায় প্রশাসনের কার্যক্রমে যে অকার্যকারিতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। ফাইল নিষ্পত্তিতে ধীরগতি, সেবা প্রদানে বিলম্ব এবং মাঠ পর্যায়ের দুর্বলতা এখন প্রায় নিয়মিত চিত্র। এ অবস্থায় শূন্য পদ পূরণ না করা হলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা আরও গভীর হবে।

    অন্যদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের উদ্যোগ—বিশেষ করে মুখস্থনির্ভর সিলেবাস থেকে দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়নে যাওয়ার পরিকল্পনা—নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রশাসনিক দক্ষতা কেবল তথ্য মনে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাই মূল যোগ্যতা।

    তবে আশঙ্কার জায়গা হলো বাস্তবায়ন। কাগজে-কলমে সংস্কার ঘোষণা করা যত সহজ, বাস্তবে তা রূপ দেওয়া ততটাই কঠিন। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং নিয়োগের স্বচ্ছতা—এই তিনটি স্তম্ভ দুর্বল হলে পুরো সংস্কার উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

    একই সঙ্গে বৃহৎ আকারের নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনায় প্রশাসনের প্রস্তুতিও বিবেচনায় নিতে হবে। দ্রুত নিয়োগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে তারা কার্যকরভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ হতে পারেন।

    সামাজিকভাবে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবি দীর্ঘদিনের। বর্তমান কাঠামোয় কোটা ও মেধার ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, শূন্য পদ পূরণ এখন আর শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতার প্রশ্ন। কিন্তু সংখ্যাভিত্তিক নিয়োগের পাশাপাশি যদি কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত না করা যায়, তবে সমস্যার সমাধান নয়, বরং তা আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

    রাষ্ট্রের সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—দ্রুত নিয়োগ এবং টেকসই সংস্কার। এই দুইয়ের ভারসাম্যই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের প্রশাসনের গুণগত মান।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ