উন্নত ডিজিটাল দক্ষতায় বড় ঘাটতি, ৮৪ শতাংশের প্রধান ভরসা ‘কপি-পেস্ট’

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপ্তি বাড়লেও ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল দক্ষতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রধান ডিজিটাল দক্ষতা হলো ‘কপি-পেস্ট’।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশকালে এই চিত্র উঠে আসে।
জরিপে দেখা গেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা মৌলিক ডিজিটাল কাজের বাইরে খুব একটা দক্ষ নন। অধিকাংশ ব্যবহারকারী কেবল তথ্য অনুলিপি বা কপি-পেস্ট করতে পারেন, যা দেশে বর্তমানে সবচেয়ে প্রচলিত ডিজিটাল দক্ষতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে সফটওয়্যার তৈরি, প্রোগ্রামিং বা উন্নত ডাটা বিশ্লেষণের মতো বিশেষায়িত ও উন্নত দক্ষতার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা অনেক পিছিয়ে আছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার অভাবেই ডিজিটাল দক্ষতার এই সংকট তৈরি হয়েছে।
দক্ষতার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। শহর এলাকায় ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও গ্রামে এই হার মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ডিজিটাল বিভাজন দেশের সুষম ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জরিপ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ (৬৪.৪ শতাংশ) সরকারি চাকরির তথ্য খুঁজতে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তবে ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো আশঙ্কাজনকভাবে কম, মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারের পথে উচ্চমূল্যকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যে, কেবল ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ালেই হবে না, বরং ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।