জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিতে জ্বালানি লোডিং অনুমোদন

নানা বাধা ও জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্স ইস্যু করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)। এ ছাড়পত্রের ফলে চলতি এপ্রিলের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিএইআরএ চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, এর আগে ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের প্রস্তুতি থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি বিষয় সামনে আসে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় জ্বালানি লোডিংয়ের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের সময় তিনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
এদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ইতোমধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি পাওয়া গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ বা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এর আগে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন ডলার। প্রথম ইউনিটের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দুই ইউনিট থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।