রসমলাইয়ে ঘুমের ওষুধ দিয়ে স্ত্রী হত্যার ঘটনায় পুলিশি অভিযান

পরকীয়ার সন্দেহ থেকে স্ত্রীকে হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে মরদেহের অংশ বিচ্ছিন্ন করার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেক (৩০)। রসমালাইয়ে চেতনানাশক মিশিয়ে স্ত্রীকে অচেতন করে পরে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়।
এর আগে, ১১ এপ্রিল বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে এক নারীর মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনদের মাধ্যমে মরদেহটি শনাক্ত করা হয়—তিনি মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নি (২৯)।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তারেক মহেশখালীর গোরকঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে। নিহত মুন্নি একই উপজেলার চরপাড়া এলাকার আমান উল্লাহর মেয়ে।
ঘটনার পর নিহতের মা হাছিনা আক্তার কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আসামিকে আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
পুলিশ জানায়, স্বামীর নিখোঁজ থাকা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গত ২৬ মার্চ স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহ থেকে রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহের মাথা ও হাতের কব্জি আলাদা করে ফেলেন।
পরদিন দেহের মূল অংশ ঝিলংজার একটি ডোবায় ফেলে দেন এবং বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাত কক্সবাজারের খুরুশকুল-কস্তোরাঘাট নতুন সেতু এলাকা থেকে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছমিউদ্দিন জানান, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজ দেহাংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।