লেনদেনে গতি থাকলেও দিকনির্দেশনার অভাব স্পষ্ট

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবারের লেনদেনের চিত্র আবারও দেশের শেয়ারবাজারে বিরাজমান অনিশ্চয়তা ও দোদুল্যমান অবস্থাকে সামনে নিয়ে এসেছে। দিনের প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রায় ৪৩০ কোটি টাকার লেনদেন হলেও অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন এবং প্রধান সূচকের সীমিত পরিবর্তন বাজারে স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবই তুলে ধরেছে।
লেনদেন শুরুর পর বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে ৩৯১টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১৮৫টির দর কমে যায়, যেখানে দাম বেড়েছে ১৩১টির। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে আস্থার ভারসাম্য এখনও তৈরি হয়নি।
সূচকের দিক থেকেও চিত্রটি ছিল মিশ্র। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯৭ পয়েন্টে। অন্যদিকে ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও তা বাজারে কোনো শক্তিশালী ইতিবাচক সংকেত দিতে পারেনি। বরং এটি খাতভিত্তিক বিচ্ছিন্ন পারফরম্যান্সেরই ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেন কখনও এক হাজার কোটি টাকার ওপরে উঠলেও ধারাবাহিকতা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়নি। এর ফলে অনেকেই নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন এবং স্বল্পমেয়াদি মুনাফা গ্রহণের দিকে ঝুঁকছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি মূলত একটি অপেক্ষার বাজারের প্রতিচ্ছবি। শক্তিশালী কর্পোরেট আয়, নীতি সহায়তা বা সামষ্টিক অর্থনীতির ইতিবাচক সংকেত ছাড়া বাজারে বড় ধরনের গতি ফেরার সম্ভাবনা সীমিত। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, শেয়ারবাজারে এখন প্রয়োজন স্থিতিশীলতা ও আস্থার পরিবেশ। নীতিনির্ধারক ও বাজার সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে তা বিনিয়োগ প্রবাহ ও বাজারের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।