বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

রাজনৈতিক পরিসর বাড়াতে সক্রিয় এনসিপি, যোগদানে উন্মুক্ত আহ্বান

রাজনৈতিক পরিসর বাড়াতে সক্রিয় এনসিপি, যোগদানে উন্মুক্ত আহ্বান
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন দলকে আরও বড় ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে টার্গেট করে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের দলে টানছে নবগঠিত এই রাজনৈতিক দলটি।

শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতেও এনসিপির নেতারা সক্রিয়ভাবে অন্য দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয়—এমন যে কাউকে দলে স্বাগত জানানো হবে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করা বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই দলে যোগ দিয়েছেন এবং আরও অনেকের যোগদানের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারাও এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং ধীরে ধীরে তারা দলে যোগ দেবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তরুণদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, এবং সেই প্রেক্ষাপটে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এনসিপি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা দলটি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা তাদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

দলটি এখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব পক্ষকে একত্রিত করতে চায়। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দলে যুক্ত হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।

সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের ৪৫ জন নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আলী আহসান জুনায়েদ, রাফে সালমান রিফাত, শাহরিন সুলতানা ইরা, রিফাত রশিদ, আইমান রাহাদ, শাহাদাত হোসেন এবং ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের চেতনা থেকেই তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে। দেশে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সহিংসতা বাড়ছে, তাই একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এখন জরুরি। তিনি আরও বলেন, কোন দল থেকে কে এসেছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়—মূল বিষয় হলো তারা এনসিপির আদর্শে বিশ্বাস করে কি না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির বিদ্রোহী ও বঞ্চিত নেতাদের দলে টানার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রনেতা ইসহাক সরকার বলেন, এনসিপির সঙ্গে তার আলোচনা চলছে এবং তিনি ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার কারণে তিনি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান।

অন্যদিকে, বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন—এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতো এনসিপিও তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যা তিনি গুরুত্ব দেননি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন