বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

ট্রাম্পের নীতি নিয়েই অচলাবস্থা—ইরানের দাবি

ট্রাম্পের নীতি নিয়েই অচলাবস্থা—ইরানের দাবি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইরানি কর্মকর্তারা শান্তি হরমুজ প্রণালী বন্ধ  এবং আলোচনায় অচলাবস্থা থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন । তারা জানিয়েছেন, তেহরান কখনও ওয়াশিংটনের ‘ধমক’-এর কাছে নতি স্বীকার করবে না।

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া সম্ভব নয়। জায়নিস্টদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং প্রকাশ্য যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া ‘অসম্ভব’ হয়ে পড়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) এক এক্স পোস্টে বাঘের গালিবাফ বলেন: 

একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি তখনই অর্থবহ হবে, যদি সামুদ্রিক অবরোধ এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার মাধ্যমে তা লঙ্ঘিত না হয় এবং যদি সর্বক্ষেত্রে জায়নবাদী যুদ্ধবাজি বন্ধ করা হয়; যুদ্ধবিরতির এমন নির্লজ্জ লঙ্ঘনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া অসম্ভব। 
 
তিনি আরও বলেন, ‘তারা সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং এখন ভয়ভীতি দেখিয়েও তা অর্জন করতে পারবে না। সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো ইরানি জাতির অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া।’
 
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়েছেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নেয়া যাবে না। এক এক্স পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরান সর্বদা সংলাপ ও সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জানাবে। অসততা, অবরোধ এবং হুমকিই প্রকৃত আলোচনার প্রধান প্রতিবন্ধক। বিশ্ব আপনাদের ভণ্ডামিপূর্ণ অন্তঃসারশূন্য কথাবার্তা এবং আপনাদের দাবি ও কাজের মধ্যকার বৈপরীত্য প্রত্যক্ষ করছে।’

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তারা প্রতিটি রাজনৈতিক ও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
 
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তান ইরান ‍ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করলেও ইরান কোনো প্রতিনিধিদল না পাঠানোয় এখন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনো আছে। কিন্তু ঠিক কবে হবে, তা অনিশ্চিত।
 
ইরান বারবার প্রকাশ্যেই বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ না উঠলে তারা নতুন করে আলোচনায় বসবে না। কিন্তু ট্রাম্প তাতে রাজি নন। মঙ্গলবার সকালেও তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রণালী খুলব না।’
 
এমন অবস্থায় গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান। যদিও এর কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি। 

তিনি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ইরানের ‘ভেতরে বিভক্ত’ নেতৃত্বকে একটি একক অবস্থান নেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
 
ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদি বলেছেন, এর কোনো মূল্য নেই এবং ‘যে পক্ষ হেরে গেছে, তারা কোনো শর্ত দিতে পারে না।’
 
মোহাম্মাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, সেটি আসলে বোমা হামলার মতোই। তার ভাষায়, ‘ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো কোনো অর্থ বহন করে না। অবরোধ চালিয়ে যাওয়া মানে বোমা হামলার মতোই, এর জবাব সামরিকভাবেই দেয়া হবে।’ 
 
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানো আসলে সময় নেয়ার কৌশল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ কোনো হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে। তার মতে, এখন ইরানের পাল্টা উদ্যোগ নেয়ার সময়।’

এদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই হরমুজ প্রণালীতে দুটি জাহাজ জব্দ করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বুধবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আটককৃত জাহাজ দুটির একটি ইসরাইল সংশ্লিষ্ট।
 
জাহাজগুলো সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন করে এবং নেভিগেশন সিস্টেম অচল করে জলসীমা অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। আটকের পর জাহাজ দুটিকে তল্লাশির জন্য ইরানি উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন