অজু করার সওয়াব ও জান্নাতের বিশেষ মর্যাদা

পবিত্রতা মুমিনের ঈমানের অঙ্গ। দৈনন্দিন ইবাদতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো অজু। তবে অজুর সাধারণ নিয়ম পালনের পাশাপাশি যদি নির্দিষ্ট কিছু দোয়া ও জিকির যুক্ত করা যায়, তবে তার প্রতিদান হিসেবে পাওয়া যেতে পারে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা। সহিহ হাদিসের আলোকে জানা যায়, অজুর শুরুতে ও শেষে বিশেষ পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলিমের জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই উন্মুক্ত হতে পারে।
অজুর শুরু ও শেষের ফজিলত
মুসলিম শরিফের বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) অজুর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ও প্রতিদান সম্পর্কে অত্যন্ত সুসংবাদ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
“যে ব্যক্তি অজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং অজুর শেষে ‘কালেমায়ে শাহাদাত’ পাঠ করবে, সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। অতঃপর সে ব্যক্তি ইচ্ছামতো যে কোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” (সহিহ মুসলিম - ৩৪৫)
আমলটি যেভাবে করবেন
১. শুরুতে বিসমিল্লাহ: যেকোনো নেক কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া বরকতময়। অজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার মাধ্যমে ওই আমলটি আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার বিশেষ মর্যাদা পায়।
২. শেষে কালেমা শাহাদাত: অজুর কাজ সমাপ্ত করার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে বা স্বাভাবিকভাবে পূর্ণ মনোযোগের সাথে কালেমা শাহাদাত পাঠ করা।
উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।
জান্নাতের দরজা ও মুমিনের মর্যাদা
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়ার অর্থ হলো ওই ব্যক্তির ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি অবারিত হওয়া। এটি একজন মুমিনের জন্য সর্বোচ্চ প্রাপ্তি যে, সে তার পছন্দমতো জান্নাতের প্রবেশপথ বেছে নিতে পারবে। অজুর এই সামান্য আমলটি কেবল শারীরিক পবিত্রতাই দেয় না, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি ও পরকালীন মুক্তির পথকে সহজ করে দেয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও অজুর এই ছোট কিন্তু অত্যন্ত ওজনদার আমলটি শিক্ষার্থীদের জন্য মনোযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মজীবীদের জন্য মানসিক প্রশান্তির বড় উৎস হতে পারে।
দৈএনকে/জে, আ