সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

সূরা হাশরের শেষ আয়াত পড়ার বিস্ময়কর ফজিলত জানুন

সূরা হাশরের শেষ আয়াত পড়ার বিস্ময়কর ফজিলত জানুন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

পবিত্র কুরআনের প্রতিটি আয়াতই বরকতময়, তবে কিছু আয়াতের সাথে স্বয়ং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এমন কিছু ফজিলত জুড়ে দিয়েছেন যা জানলে যে কেউ অবাক হবেন। সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত (আয়াত ২২, ২৩ ও ২৪) তেমনই এক বিশেষ অংশ। মাত্র দুই মিনিটের এই আমলটি একজন মুমিনের সারাদিনের নিরাপত্তা এবং পরকালীন মর্যাদার গ্যারান্টি হতে পারে।

আল্লাহর ১৫টিরও বেশি নাম: এক অনন্য আত্মপরিচয়

সূরা হাশরের এই শেষ তিন আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা নিজের ১৫টিরও বেশি গুণবাচক নাম একসাথে উল্লেখ করেছেন। এখানে তিনি নিজেকে ‘আল-মালিক’ (বাদশাহ), ‘আস-সালাম’ (শান্তিদাতা), ‘আল-খালিক’ (সৃষ্টিকর্তা) এবং ‘আর-রাহমান’ (পরম দয়ালু) হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মুফাসসিরদের মতে, পুরো কুরআনে আল্লাহর এতগুলো গুণবাচক নাম এত ঘনভাবে আর কোথাও আসেনি।

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۖ هُوَ الرَّحْمَـٰنُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: হুয়াল্লাহুল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়া, আলিমুল গাইবি ওয়াশ শাহাদাহ, হুয়ার রাহমানুর রাহীম।
"তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুর জ্ঞানী। তিনিই রাহমান, রাহীম।"
(সূরা হাশর: ২২)

 

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ
উচ্চারণ: হুয়াল্লাহুল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়া, আল-মালিকুল কুদ্দুসুস সালামুল মুমিনুল মুহাইমিনুল আযীযুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির। সুবহানাল্লাহি আম্মা ইউশরিকুন।
"তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি বাদশাহ, পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রতাপশালী, মহিমান্বিত। তারা যা শরীক করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।"
(সূরা হাশর: ২৩)

 

هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
উচ্চারণ: হুয়াল্লাহুল খালিকুল বারিউল মুসাউয়ির। লাহুল আসমাউল হুসনা। ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়া হুয়াল আযীযুল হাকীম।
"তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী। তাঁর জন্যই সুন্দরতম নামসমূহ। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব তাঁরই তাসবিহ করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
(সূরা হাশর: ২৪)

৬টি অসামান্য ফজিলত: যা আপনার জীবন বদলে দেবে

১. ৭০ হাজার ফেরেশতার দোয়া: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে ৩ বার ‘আউযু বিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইতানির রাজীম’ পড়ার পর এই তিন আয়াত পড়বে, আল্লাহ তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করেন। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ব্যক্তির জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকেন। (তিরমিযী: ২৯২২)

২. সারাদিনের সুরক্ষা: সকালে পড়লে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যায় পড়লে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অদৃশ্য নিরাপত্তা বেষ্টনী বা ‘ডিভাইন প্রোটেকশন’ পাওয়া যায়।

৩. শাহাদাতের মর্যাদা: হাদিসে এসেছে, এই আমল করার পর ওই দিন বা রাতে যদি কারো মৃত্যু হয়, তবে তিনি শাহাদাতের (শহীদের) মর্যাদা লাভ করবেন।

৪. শয়তান থেকে হিফাজত: আমলের শুরুতে পঠিত বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ‘আস-সামি’ ও ‘আল-আলিম’ নামের ওসিলায় শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলে।

৫. আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক: ১৫টি গুণবাচক নাম বুঝে পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও দয়া সম্পর্কে অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়।

৬. প্রতিদিন ঈমান তাজা রাখা: সোশ্যাল মিডিয়া ও দুনিয়াবি ব্যস্ততার ভিড়ে এই আমলটি মুমিনের অন্তরে আল্লাহর বড়ত্ব গেঁথে দেয় এবং ঈমানকে সতেজ রাখে।

আমলের সঠিক পদ্ধতি

প্রতিদিন ফজরের পর এবং মাগরিবের পর এই আমলটি করা সুন্নত।

  • প্রথমে ৩ বার পড়ুন: "আউযু বিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইতানির রাজীম"

  • এরপর সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত (২২, ২৩ ও ২৪ নং আয়াত) তিলাওয়াত করুন।

আমরা সারাদিনে অনেক অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় ব্যয় করি। কিন্তু মাত্র ২ মিনিটের এই আমলটি আমাদের জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতার দোয়া এবং শাহাদাতের মতো বিশাল পুরস্কার বয়ে আনতে পারে। আজ থেকেই এই আমলটি আপনার ও আপনার পরিবারের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করুন।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন