বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

কাগজশিল্পে শুল্ক ও কর কমানোর দাবি উঠেছে

কাগজশিল্পে শুল্ক ও কর কমানোর দাবি উঠেছে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় জটিলতা, কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপের কারণে দেশের কাগজশিল্প বর্তমানে সংকটের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৮০টি মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও ২৬টি মিল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর হ্রাস, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ এবং নীতিগত সহায়তার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (গতকাল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি এসব প্রস্তাব তুলে ধরে।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্যবসা উন্নয়ন ও রপ্তানি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মোট ১৭টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে—সংবাদপত্র ও প্রকাশনা সামগ্রীর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ এবং ভ্যাট ১৫ শতাংশ নির্ধারণ; গ্রিসপ্রুফ, মেলামাইন, থার্মাল ও ক্রাফট লিনার পেপারে কাস্টমস ডিউটি ও রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ শতাংশ এবং সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ নির্ধারণ। পাশাপাশি মাইক্রো ক্যাপসুল, কাওলিন ক্লে, ভি-বেল্ট ও এয়ার ফিল্টারের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। কিছু কাঁচামাল যেমন এন্ডলেস সিনথেটিকস, ডিস্ক ফর সেট ও এয়ার বেলো’র ক্ষেত্রে অগ্রিম কর মওকুফের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মডিফায়েড স্টার্চ, এয়ার স্প্রিং ও হট মেল্ট গ্লু আমদানিতে রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার ও শুল্ক হ্রাসের দাবি জানানো হয়। টিস্যু, হ্যান্ড টাওয়েল ও টয়লেট টিস্যুর ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কাগজশিল্প শিক্ষা, প্রকাশনা ও প্যাকেজিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের মিলগুলো বছরে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন কাগজ উৎপাদনে সক্ষম, যার একটি বড় অংশ দেশীয় চাহিদা পূরণ করে এবং প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন কাগজ ৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। এই খাতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং মোট বিনিয়োগ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এছাড়া কাগজশিল্পকে ঘিরে ৩০০টির বেশি সহায়ক শিল্প গড়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত জটিলতার কারণে অনেক মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো, সহজ ঋণ সুবিধা, বিদ্যুৎ-গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং নীতিগত সহায়তা দেওয়া হলে এই শিল্প পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন