বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

চলতি মাসেই সরকারি বাসা খালি করার নির্দেশ সাবেক উপদেষ্টাদের

চলতি মাসেই সরকারি বাসা খালি করার নির্দেশ সাবেক উপদেষ্টাদের
ছবি- সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের আর দীর্ঘদিন সরকারি বাসভবনে অবস্থান করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্টদের সরকারি বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসা বুঝিয়ে না দিলে পরবর্তী সময় থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দায়িত্বে না থাকলে সরকারি বাসভবনে অবস্থানের সুযোগ সীমিত। সেই নীতিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এ নির্দেশনার ফলে সরকারি আবাসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বাসভবন বরাদ্দ সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস সময় নিতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে মার্চ বা এপ্রিল মাসের জন্য ভাড়া আদায় করা হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ মাসের ভাড়া নেওয়া হবে না।

একই সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে ঢাকার গুলশানে নিজের বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। আবাসন পরিদপ্তর জানায়, ফেব্রুয়ারির পর সরকারি বাসায় থাকতে আগ্রহী এমন কোনো আবেদন সাবেক উপদেষ্টা বা অন্যদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।


আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো নীতিমালা নেই। তারা পেনশন সুবিধাও পান না। এ কারণে বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সবাই চলতি মাসের মধ্যেই বাসা ছেড়ে দেবেন। বিশেষ প্রয়োজনে এক মাস সময় নেওয়া যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ভাড়া দিতে হবে।

জানা গেছে, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় ২৪টি বাংলো এবং ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলো দ্রুত মেরামত ও রংচং করে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আবাসন পরিদপ্তরের লক্ষ্য, মার্চের মধ্যেই নতুন বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
বর্তমানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন বাসার জন্য আবেদন করেছেন। কোন বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্ট কাকে দেওয়া হবে সে বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। আবেদনগুলো নবনিযুক্ত মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আবেদনকারীদের নিজ নিজ পছন্দের বাসভবন সরেজমিনে পরিদর্শন করে মতামত জানাতে বলা হয়েছে।

এদিকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ৪৯ জন। এ ছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী আছেন আরও ১০ জন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী একজন, মন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপও রয়েছেন। পাশাপাশি সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও একাধিক হুইপ থাকবেন। তবে বরাদ্দ দেওয়ার মতো মোট বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ৩৭টি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য আপাতত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ব্যবহৃত হবে।

তালিকায় খোদ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরও রয়েছেন। এ অবস্থায় সবার আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে কি না এ বিষয়ে আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক বলেন, সবাই সরকারি বাসা বরাদ্দ চাইবেন না। ফলে বড় কোনো সমস্যা হবে না।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন