জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের বটতলী বাজারে সরকারি জায়গা দখল ও দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ হাইওয়ে সড়কের উত্তর পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (রোড অ্যান্ড হাইওয়ে)
অধিগ্রহণকৃত জায়গা নিজেদের দাবি করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মুমেন শিপন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বটতলী বাজারের ওই সরকারি জায়গাটি দীর্ঘ বছর ধরে আনোয়ার হোসেনের দখলে ছিল।
সম্প্রতি মুমেন শিপন ও তার ভাইয়েরা ওই জায়গার পেছনে (পূর্ব পাশে) ৭৫ পয়েন্ট জমি ক্রয় করেন।
জমি ক্রয়ের পর থেকেই সামনের সরকারি জায়গাটি নিজেদের দাবি করে তারা প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।
বাজার কমিটির অভিযোগ, মুমেন শিপন গংরা সেখানে দোকান নির্মাণ করেছেন এবং সেখানে 'জ্বীন তাড়ানোর' নামে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে।
প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ এ নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
ভাঙচুর ও উত্তেজনা
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, বাজার পরিচালনা কমিটির হস্তক্ষেপে আনোয়ার হোসেনকে সেখানে একটি ছোট দোকান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে মুমেন শিপন ও তার লোকজন দলবদ্ধ হয়ে আনোয়ারের দোকানটি ভেঙে পাশের পুকুরে ফেলে দেয় এবং পুরো সরকারি জায়গাটি নিজেদের সীমানায় ঘিরে ফেলে।
বটতলী বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরে আলম ও সাধারণ সম্পাদক রকিব জানান: "আনোয়ার হোসেন বহু বছর ধরে এখানে ছিলেন।
কিন্তু মুমেন শিপনরা জমি কেনার পর গায়ের জোরে সরকারি জায়গা দখল করে নিয়েছেন।
গতকাল রাতে দোকান ভাঙচুরের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।"
সরকারি জায়গা দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে মুমেন শিপন অকপটে স্বীকার করে বলেন, "দোকানটি সরকারি জায়গাতেই তুলেছি।
যেহেতু দোকানের পেছনে আমার মালিকানা জমি আছে, তাই সামনের এই সরকারি জায়গাটিও আমি নিজের বলে মনে করছি।"
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
বর্তমানে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।
বাজার কমিটি ও সাধারণ জনগণের দাবি: প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি মীমাংসা করুক।
হয় দুই পক্ষকেই আইন মেনে ব্যবসা করতে দেওয়া হোক, অথবা সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে খালি রাখা হোক।
পেশিশক্তির জোরে সরকারি সম্পত্তি দখল বন্ধ করা হোক।
এলাকাবাসী আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রোধে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।