হাতুড়ি দিয়ে কলেজছাত্র হত্যা: শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামিসহ পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হত্যার এক মাস পার হলেও মূল আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজার এলাকায় নিহতের স্বজন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে দ্রুত বিচার ও আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
নিহত আশরাফুল ইসলাম উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের একমাত্র ছেলে এবং রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মামলার বাদী ও নিহতের পিতা আজিজুল হক খান বলেন, “আমার একমাত্র ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার স্ত্রী ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রধান ঘাতকসহ পলাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই। যারা হত্যাকারীদের সন্ধান দিতে পারবেন, তাদের এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।”
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে মাদক সেবনে বাধা ও ডিবি পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে স্থানীয় কিশোরগ্যাং সদস্যরা আশরাফুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে হাতুড়ি ও ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০ জানুয়ারি বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
১৭ জানুয়ারি আজিজুল হক বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পলাতক আসামিরা হলেন—চরআবাবিল ইউনিয়নের কিশোরগ্যাং সদস্য ও মাদকসেবী মো. নাহিদ, সুফিয়ান, শাকিল পাইক, শামীম ও মো. হাবিব।
এর আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা গাউছিয়া এলাকা থেকে হত্যা মামলার আসামি শাকিল বেপারী (২৩), সোহাগ বেপারী (১৯) ও মোক্তার পাটওয়ারী (২০) গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া বলেন, “হত্যা মামলার চার আসামি কারাগারে রয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও র্যাব তৎপর রয়েছে।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, মাদক ও কিশোরগ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।