সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ মন্দিরে তিনদিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা শুরু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ ধামে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শিবচতুর্দশী মেলা। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তিন দিনব্যাপী এই তীর্থমেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও প্রথম দিনে তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি।
মেলা কর্তৃপক্ষ বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে পরপরই মেলা শুরু হওয়ায় দূর-দূরান্তের তীর্থযাত্রীরা এখনো পুরোপুরি এসে পৌঁছাননি। ফলে অন্যান্য বছরের মতো ব্যাসকুণ্ড, শ্রদ্ধাঙ্গন ও ভৈরব মন্দির এলাকায় এখনো জমেনি ভক্তদের ঢল।
মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, মোহান্ত আস্তানবাড়িসহ পুরো চন্দ্রনাথ ধাম এলাকায় ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় শান্ত পরিবেশ। ব্যাসকুণ্ডের পাশে সীমিত সংখ্যক ব্রাহ্মণকে ধর্মীয় আচার পালন করতে দেখা গেছে। এদিকে মতুয়া ও জেলে সম্প্রদায়ের আয়োজনও এবার মোহান্ত আস্তানবাড়ির ভেতরে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পণ্ডিত রাজীব চক্রবর্তী জানান, রোববার সন্ধ্যায় চতুর্দশী তিথি শুরু হলে মূল ধর্মীয় কর্মসূচি—স্নান ও তর্পণ—পুরোদমে শুরু হবে। তবে ত্রয়োদশী তিথিতে প্রত্যাশিত ভক্তসমাগমের চার ভাগের এক ভাগও এখনো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আয়োজকরা জানান, তীর্থযাত্রীরা ত্রয়োদশী থেকেই সংযম পালন করছেন। চতুর্দশী তিথিতে তারা ব্যাসকুণ্ডে পবিত্র স্নান ও তর্পণ সম্পন্ন করবেন। এরপর বিভিন্ন মঠ-মন্দির পরিক্রমা শেষে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত স্বয়ম্ভুনাথ ও চন্দ্রনাথ মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালবেন। মেলার শেষ দিন অমাবস্যা তিথিতে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তীর্থযাত্রা সম্পন্ন হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। উপজেলা প্রশাসন ও সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির যৌথ উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা। পুলিশ ও সেনাবাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে।
সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ বলেন, তীর্থযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি পথসহ বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার করা হয়েছে।
উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে সহকারী ব্যবস্থাপক তুষার চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে হয়তো অনেক ভক্ত এখনো আসেননি। তবে মূল তিথিতে ভক্তদের ঢল নামবে বলে তিনি আশাবাদী।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মেলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ধর্মীয় এই বৃহৎ আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক।