বহিষ্কারেই হবে নবীনগরের রাজনৈতিক ‘আবিষ্কার’

“বহিষ্কার কোনো রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের এই বক্তব্যে এখন উত্তাল নবীনগরের রাজনীতি।
রোববার বিকেলে নবীনগর সরকারি হাইস্কুল মাঠে ‘ফুটবল’ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নতুন সম্ভাবনার বার্তা
বিশাল জনসমুদ্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাপস তার সাম্প্রতিক দলীয় বহিষ্কারের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত সাহসের সাথে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী দেয়, অনেক সময় বহিষ্কারই নতুন সম্ভাবনার জন্ম দেয়। ইনশাল্লাহ, এই বহিষ্কার থেকেই নবীনগরে জন্ম নেবে এক নতুন রাজনৈতিক আবিষ্কার।
” তার এই সাহসী উচ্চারণ উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
উন্নয়নের অঙ্গীকার ও জনগণের রায়
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নবীনগরের উন্নয়ন, গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তিনি কোনো আপস করবেন না।
দল থেকে দূরে সরে গেলেও জনগণের সাথে তার আত্মার সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আগামী নির্বাচনে ‘ফুটবল’ প্রতীকে ভোট দিয়ে এই ‘অন্যায়’ বহিষ্কারের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তিনি ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সংহতি ও বিশাল জনসমাগম
নবীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম শফিকের সভাপতিত্বে এই জনসভা কার্যত এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন:
মাইনুদ্দিন মাইনু, সাবেক মেয়র, নবীনগর পৌরসভা।
হযরত আলী, সাবেক সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি। আবু সাঈদ, সাবেক কাউন্সিলর।
এছাড়াও আশরাফ হোসেন রুবেল, মফিজুর রহমান মুকুল এবং আলী আজ্জমসহ স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ।
নির্বাচনী সমীকরণ ও জনশ্রুতি
উপস্থিত সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবিবারের এই বিশাল জনসমাগম নির্বাচনী মাঠে কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের শক্ত অবস্থানেরই প্রমাণ দিচ্ছে।
বহিষ্কারের পর সহানুভূতি এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—এই দুইয়ে মিলে ‘ফুটবল’ প্রতীক এখন নবীনগরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।