আজও ফতেহপুর বাসীর ভাগ্যে জোটেনি একটি ব্রিজ

স্বাধীনতার কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর, গ্রামবাসীর।
আধুনিক যুগে এসেও প্রায় সাত থেকে আট হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নিজেদের তৈরি একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।
শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় এই দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। গ্রামের প্রবীণ মানুষদের কথা হলো, 'কত এমপি আইলো গেলো...'
গ্রামের শতবর্ষী ও প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই তারা এই খালটি পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো দেখে আসছেন।
ফতেহপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের দাবি, বছরের পর বছর ধরে অনেক সংসদ সদস্য (এমপি) এসেছেন এবং ব্রিজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছেন।
কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতির কথা কেউ মনে রাখেনি।
গ্রামের একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, "কত এমপি আইলো আর গেলো, আমাগো কপাল আর ফিরলো না।
জন্মের পর থেইক্যা এই বাঁশের সাঁকোই দেখতাছি। শত বছরেও একটা ব্রীজ হইলো না, আর কবে হইবো আল্লায় জানে।"
প্রতিদিন এই বিপজ্জনক সাঁকো দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং অসুস্থ রোগীদের যাতায়াত করতে হয়।
বর্ষাকালে সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে গ্রামবাসীর ভোগান্তির কোনো সীমা থাকে না।
এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়ন ও শ্রমে নির্মিত এই সাঁকোটি বারবার মেরামত করে কোনোমতে টিকে থাকলেও একটি স্থায়ী ব্রিজের অভাব আজ তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণ মানুষের দাবি
ফতেহপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের এখন একটাই চাওয়া—প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, বরং দ্রুত একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণ।
তাদের প্রশ্ন, আধুনিক বাংলাদেশে আর কতকাল তাদের এই নড়বড়ে বাঁশের ওপর ভর করে চলতে হবে?