দুপুর হলেই ওষুধ উধাও, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তি চরমে

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিদিনই নানা দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। জনবল ঘাটতি, পর্যাপ্ত ওষুধের অভাব, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি কার্যত চাপে পড়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের ভিড়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসকের সাক্ষাৎ মিললেও প্রেসক্রিপশনে লেখা প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ মিলছে না হাসপাতাল থেকেই। রোগীদের অভিযোগ, দুপুর বারোটা পার হলেই বেশিরভাগ ওষুধ ‘শেষ’ বলে জানানো হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের কিছু কর্মচারীর আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বেলায় জরুরি সেবার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকটের ফলে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং রোগীরা প্রয়োজন অনুযায়ী সময় ও মনোযোগ পাচ্ছেন না। এতে সামগ্রিকভাবে চিকিৎসাসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ একটি বড় সুবিধা হলেও হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই সুবিধা নিয়মিত মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সকাল থেকে ওষুধ বিতরণ শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ফুরিয়ে যায়। ফলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যা তাঁদের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে না পেরে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোগী ব্যবস্থাপনা, সিরিয়াল ব্যবস্থা ও ওষুধ বিতরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার অভাব স্পষ্ট। যথাযথ তদারকি না থাকায় এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই চলমান। ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত তথ্য না দেওয়া এবং প্রশ্ন করলে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করা হয় এবং সে তালিকা ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে টাঙানো থাকে। ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রের কর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, কিছু জটিল রোগের ওষুধ উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না এবং জনবল সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রত্যাশীরা দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জনবহুল হাটহাজারী উপজেলায় একটি কার্যকর ও মানসম্মত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।