যুদ্ধ নয়, সংঘাত এড়াতেই প্রস্তুতি: সেনাপ্রধান

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয় যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য।
প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি জানান, দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, এ সংকট সমাধানে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পরও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে দেশে একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি পরিশোধন সম্ভব হচ্ছে, আর বাকি জ্বালানি উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সংকট জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
সমাপনী বক্তব্যে সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ভবিষ্যতে এ ধরনের কোর্সের সংখ্যা আরও বাড়াবে এবং অংশগ্রহণকারীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
গত ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য দেন এবং অংশগ্রহণকারী ফেলোদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন।
এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই কোর্স অংশগ্রহণকারীদের কৌশলগত চিন্তাভাবনা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে সহায়ক হয়েছে।
ক্যাপস্টোন কোর্সটি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ, যার লক্ষ্য কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তার বিকাশ, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।