বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

ইহরামের পবিত্রতা রক্ষা: ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য যা করা নিষিদ্ধ

ইহরামের পবিত্রতা রক্ষা: ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য যা করা নিষিদ্ধ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইসলাম ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের প্রথম ধাপ হলো ইহরাম বাঁধা। ইহরাম কেবল নির্দিষ্ট দুটি শুভ্র বস্ত্র পরিধান নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক অবস্থা। ইহরাম গ্রহণের পর একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের স্বাভাবিক অনেক অভ্যাসের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন। শরিয়ত নির্ধারিত এই নিয়মগুলো ভঙ্গ করলে অনেক সময় ‘দম’ বা কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়। তাই হজযাত্রীদের সচেতনতায় ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো জেনে রাখা জরুরি।

১. শারীরিক পরিচ্ছন্নতা ও প্রসাধনী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

ইহরাম অবস্থায় শরীরে বা পোশাকে কোনো প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে চুল কাটা, নখ কাটা বা শরীরের কোনো পশম উপড়ে ফেলা যাবে না। এমনকি সাবান বা সুগন্ধযুক্ত তেল ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হয়।

২. পোশাক সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ

পুরুষদের জন্য সেলাই করা কোনো পোশাক (যেমন: লুঙ্গি, শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি, মোজা) পরিধান করা নিষেধ। মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে রাখাও পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ। তবে নারীরা সেলাই করা স্বাভাবিক পোশাক পরবেন, কিন্তু তারা চেহারার সাথে লেগে থাকে এমনভাবে নেকাব ব্যবহার করতে পারবেন না।

৩. শিকার ও প্রকৃতি রক্ষা

ইহরাম অবস্থায় কোনো প্রকার স্থলচর প্রাণী শিকার করা বা শিকারিকে সাহায্য করা হারাম। এমনকি পবিত্র হারাম শরীফের সীমানার মধ্যে কোনো গাছ বা ঘাস উপড়ানো বা ডাল ভাঙাও নিষেধ। এটি মূলত প্রকৃতির প্রতি ইসলামের সহনশীলতার এক অনন্য শিক্ষা।

৪. দাম্পত্য ও ব্যক্তিগত আচরণ

ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস বা এ সংক্রান্ত কোনো আলাপ-আলোচনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া ঝগড়া-বিবাদ, গালিগালাজ বা অন্য কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়। কুরআন মজিদে এরশাদ হয়েছে— ‘হজের সময় কোনো অশ্লীল কাজ, পাপ কাজ ও ঝগড়া-বিবাদ করা যাবে না।’ (সুরা বাকারা: ১৯৭)

৫. বিয়ের প্রস্তাব ও আকদ

হাদিস শরিফ অনুযায়ী, ইহরাম অবস্থায় কেউ নিজে বিয়ে করতে পারবে না এবং অন্য কারো বিয়ের প্রস্তাব বা আকদ (বিবাহ বন্ধন) পরিচালনা করতে পারবে না।

ভুলবশত নিয়ম ভঙ্গ হলে করণীয়

আলেমদের মতে, যদি কেউ ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত কোনো নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলেন, তবে দ্রুত তওবা করতে হবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে সুগন্ধি ব্যবহার বা চুল-নখ কাটলে গুনাহের ধরণ অনুযায়ী ফিদইয়া বা কোরবানি (দম) আদায় করতে হতে পারে।

পরিশেষে, ইহরামের এই সাময়িক ত্যাগ মূলত মানুষকে ধৈর্য, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়। সঠিক নিয়ম ও পবিত্রতা বজায় রেখে হজ বা ওমরাহ পালনই আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন