নবীনগরে আগুনে বিএনপির অফিসসহ ৫ দোকান ভস্মীভূত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কুড়িঘর (একইছড়া) গ্রামে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে বিএনপির একটি নির্বাচনী কার্যালয়সহ বাজারের পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ২ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভস্মীভূত দোকানগুলো থেকে তখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে।
বাজারের পাশের বাসিন্দা মনির মিয়া জানান, "বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি অফিসের বিদ্যুতের তার জ্বলছে। মুহূর্তেই আগুন পাশের মুদি দোকানসহ অন্য দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের উৎপত্তি।"
একই সুর স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও দিনমজুর জুনায়েদের কণ্ঠেও। তারা জানান, গ্রামে কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা বিবাদ নেই। সবাই মিলেমিশে থাকেন, তাই এটি দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মাহবুব, সোহেল, শামিম ও জাকির হোসেন জানান, তাদের দোকানগুলোতে থাকা মালামাল বের করার কোনো সুযোগই তারা পাননি। আগুনে সব পুঁজি হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব।
তবে আগুনের কারণ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হানিফ মিয়া বলেন, "সবাই আন্তরিক হলেও আমার আশঙ্কা হচ্ছে, নির্বাচনী প্রতিহিংসা থেকে কেউ অফিসে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে।"
অন্যদিকে, নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে একটি মুদি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে বিএনপির কার্যালয়সহ মোট পাঁচটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।