চট্টগ্রাম ৫ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই, ভোটের আমেজ সর্বত্র

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম ৫ (হাটহাজারী–বায়েজিদ আংশিক) আসনে নির্বাচনী তৎপরতা এখন চরমে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন তাদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীরাও।
হাটহাজারী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও বায়েজিদ আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪০ হাজার ৫২২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন। নির্বাচন আর মাত্র ১০ দিন দূরে থাকায় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারণার গতি। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। গ্রামের অলিগলি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যন্ত সরব হয়ে উঠেছে প্রচারণা কার্যক্রম।এদিকে ভোটারদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। কে কোন প্রার্থীর পক্ষে, কার জনপ্রিয়তা কেমন এসব নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, যিনি বিপদে-আপদে পাশে থাকবেন তাকেই তারা ভোট দিতে আগ্রহী।
এবারের নির্বাচনে মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশকে ভোটাররা বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন।
এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির (রিকশা) এর মধ্যে এমনটাই ধারণা ভোটারদের।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মতি উল্লাহ নূরী (হাতপাখা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (চেয়ার), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ (ফুটবল) এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. আলা উদ্দিন (আনারস) নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নারী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলালের সহধর্মিণী নওশীন আরজান হেলালের নেতৃত্বে মহিলা দলের নেত্রীদের নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মীর হেলাল নির্বাচিত হলে হাটহাজারীর প্রতিটি এলাকার সমস্যা, বিশেষ করে নারী সমাজের নানা বিষয় অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা হচ্ছে এবং অনলাইন বডি অন ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম রেকর্ড করা হবে। এ আসনে মোট ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৯৬৯টি ভোটকক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে কাজ করছে।