শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

স্কুল শুরুর আগেই রাস্তায় মৃত্যুফাঁদ, নবীনগরে ট্রাক্টরের দাপট

স্কুল শুরুর আগেই রাস্তায় মৃত্যুফাঁদ, নবীনগরে ট্রাক্টরের দাপট
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

পৌর শহর  নবীনগর যখন একটি শহরের ঘুম ভাঙে প্রশান্তি আর স্নিগ্ধতা নিয়ে, ঠিক তখনই ধুলোবালি আর বিকট শব্দে বিভীষিকা ছড়িয়ে রাজপথ কাঁপাচ্ছে বালু ও ইটবাহী ট্রাক্টর।

বিশেষ করে ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত—যখন খুদে শিক্ষার্থীরা স্কুলের পথে রওনা হয়—ঠিক তখনই এসব ‘ঘাতক’ যানবাহনের বেপরোয়া গতি শহরবাসীর জন্য মূর্তমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

আজ সকালে শহরের ব্যস্ততম চার রাস্তার মোড়ে ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে দেখা যায় গা শিউরে ওঠা দৃশ্য।

একের পর এক রড, সিমেন্ট ও বালুবোঝাই ট্রাক্টর ও থ্রি-হুইলারগুলো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তীব্র গতিতে ছুটে চলছে। 

অথচ এই সময়েই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
​রাস্তা পারাপারের সময় অনেক অভিভাবককে দেখা যায় ভয়ে থমকে দাঁড়াতে।

একজন উদ্বিগ্ন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠানোর সাহস পাই না। 

এই ট্রাক্টরগুলো কি রাস্তা দিয়ে চলার যোগ্য? প্রশাসনের চোখের সামনে এসব ঘটলেও তারা যেন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।"

​বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

​শুধু স্কুলগামী শিশুরাই নয়, ভোরে যারা স্বাস্থ্য সচেতনতায় মর্নিং ওয়াকে বের হন কিংবা যারা 'বউ বাজারে' সওদা করতে আসেন, তাদের জীবনের ঝুঁকিও এখন চরমে।

 ট্রাক্টরের অনিয়ন্ত্রিত গতি আর উড়ন্ত ধুলোবালিতে নাকাল হচ্ছেন পথচারীরা।
 অনেক প্রবীণ নাগরিক জানান, এই ট্রাক্টরগুলোর কারণে শান্তিতে রাস্তায় হাঁটার জো নেই।

যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা এখন সবার মনে। দাবি ও সমাধান শহরবাসীর দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও স্পষ্ট।

​ইট, বালু ও রড-সিমেন্টবাহী ট্রাক্টর চলাচলের সময় পরিবর্তন করে রাত ৮টার পর নির্ধারণ করতে হবে।

​লাইসেন্সবিহীন ও চলাচলের অযোগ্য এসব ট্রাক্টর শহরের প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ করতে হবে।

​প্রশাসনের কঠোর নজরদারি: স্কুল শুরুর সময়ে প্রধান মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

​সচেতন মহলের মতে, এখনই যদি প্রশাসন টনক নড়ে না বসে এবং এই 'ঘাতক' যানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে যেকোনো সময় বড় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

নবীনগর পৌর শহরবাসী চান একটি নিরাপদ ভোর এবং শিশুদের জন্য শঙ্কাহীন পথচলা।
 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন