শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

ফরাসি তরুণীর ভালোবাসার ঠিকানা লক্ষ্মীপুরে

ফরাসি তরুণীর ভালোবাসার ঠিকানা লক্ষ্মীপুরে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ভালোবাসা কখনো পাসপোর্ট দেখে না, মানে না ভাষা বা সংস্কৃতির দেয়াল। ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর—এমনই এক হৃদয়ছোঁয়া প্রেমের গল্প এখন আলোচনায়। 

ফ্রান্সের এক তরুণী সিনথিয়া ইসলাম আর লক্ষ্মীপুরের তরুণ আরিফুল ইসলাম রাসেলের ভালোবাসা প্রমাণ করে, সত্যিকারের প্রেমের কাছে পৃথিবীর দূরত্বও হার মানে।

উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১১ সালে ইংল্যান্ড পাড়ি জমান লক্ষ্মীপুরের ছেলে রাসেল। ২০১৩ সালে তিনি যান ফ্রান্সে। সেখানেই পড়াশোনার সূত্রে পরিচয় সিনথিয়ার সঙ্গে। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে গভীর ভালোবাসা। ভাষার জটিলতা ছিল—রাসেল ফরাসি জানতেন না, সিনথিয়াও বাংলা। গুগল ট্রান্সলেটই ছিল তখন তাদের নীরব সেতু। তবু মনের ভাষা বোঝাতে কোনো অনুবাদ দরকার হয়নি।

পরিবারের নানা বাধা পেরিয়ে ২০১৭ সালে সিনথিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। খ্রিষ্টান ধর্ম থেকে ইসলামে এসে তার নাম হয় সিনথিয়া ইসলাম। এরপর ইসলামি রীতিতে লক্ষ্মীপুরেই বিয়ে হয় তাদের। ভালোবাসার টানে এ পর্যন্ত পাঁচবার শ্বশুরবাড়ি এসেছেন তিনি।

সম্প্রতি স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আবারও লক্ষ্মীপুরে এসেছেন ফ্রান্সের এই তরুণী। কখনো গ্রামের মেঠোপথে হাঁটা, কখনো হাওয়াই মিঠাই খাওয়া, কখনো বা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গল্প—সবকিছুতেই মিশে গেছেন আপনজনের মতো। গ্রামের সরলতা, মানুষের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে বারবার।

রাসেল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার সমসের উদ্দিন খলিফা বাড়ির মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে। আর সিনথিয়া ফ্রান্সের লারোসাল শহরের পচিচ জুবেরের কন্যা। তাদের সংসারে রয়েছে দুই ফুটফুটে সন্তান—মেয়ে আমেনা ইসলাম (৬) ও ছেলে আলিফ ইসলাম (৪)।

ভালোবাসার এই গল্প শুধু ঘরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৪ সালে তারা খুলেছেন ‘রাসেল এন্ড সিনথিয়া’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ। উদ্দেশ্য—বিদেশে বসে বাংলাদেশকে তুলে ধরা, আবার বাংলাদেশের মানুষকে বিশ্বদরবারে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। বর্তমানে পেইজটির ফলোয়ার প্রায় ২১ লাখ। যার বড় একটি অংশ বিদেশি।

রাসেল জানান, কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের সব কাজ তিনিই করেন, মাঝে মাঝে আইডিয়া দেন সিনথিয়া। তার সহজ আচরণ, হাসি আর গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দৃশ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

সংসার জীবনে সিনথিয়ার ধৈর্য আর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করে রাসেল বলেন, “বিশ্বাস আর ভালোবাসা থাকলে সবকিছু সহজ হয়ে যায়।” শ্বশুরবাড়ির ভালোবাসা পেয়ে সিনথিয়াও বারবার বাংলাদেশে ফিরতে চান।

ফরাসি ভাষায় সিনথিয়া বলেন, বাংলাদেশের পারিবারিক বন্ধন আর ভালোবাসাই তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। বাংলা ভাষায় হাসিমুখে বলেন, “আমার দেশ বাংলাদেশ।” শাশুড়ির হাতের পিঠা তার প্রিয় খাবার।

ফ্রান্স ও বাংলাদেশের দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গড়া এই পরিবার যেন ভালোবাসার এক জীবন্ত গল্প। যেখানে সীমান্ত নেই, নেই ভাষার বাধা—শুধু আছে হৃদয়ের গভীর টান।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন