মিয়ানমারের ছোড়া গুলিতে কক্সবাজার সীমান্তে শিশু নিহত

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় এক শিশু নিহত হয়েছে। রোববার (সকাল সাড়ে ১০টার দিকে) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটি সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় মিয়ানমারের ভেতর দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে তাকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে এবং গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন।
নিহত আফনান ওরফে পুতুনি (১২) ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে। সে লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভে কক্সবাজার-টেকনাফ প্রধান সড়কের লম্বাবিল এবং টেচ্ছাবিজ্র এলাকায় অবরোধ করেছেন। অন্যদিকে মিয়ানমারের গোলার ভয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন সীমান্তের মানুষ।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাতভর গোলাগুলির ঘটনা চলছিল। এর মধ্য ওপার থেকে আসা গুলিতে স্থানীয় এক শিশু নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা বিক্ষোভ করছেন। সড়কে যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে সেটা নিয়ে কাজ চলছে।
হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দা মোহামদ আমিন বলেন, টানা কয়েকদিন ধরে এই সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ঘটনা চলছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে শুরু গোলাগুলি আজ রোববার ভোরে থেমছে। এতে সীমান্তের মানুষের নির্ঘুমের পাশাপাশি আতঙ্কের মধ্য জীবন পার করছে। এছাড়া আজকে মিয়ানমারে থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু নিহত হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্য চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।
উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির খবর শুনেছি। আমরা খোঁজ খবর রাখছি। পাশাপাশি যাতে কোনোভাবে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে না পারে আমরা সর্তক অবস্থানে রয়েছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে এক শিশু নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। এছাড়া হোয়াইক্যং সীমান্তের গোলাগুলির কারনে সীমান্তের বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। সড়ক অবরোধ সরানোর চেষ্টা চলছে।