শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে ইতিহাস গড়লেন লক্ষ্মীপুরের নাজমুন নাহার

১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে ইতিহাস গড়লেন লক্ষ্মীপুরের নাজমুন নাহার
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

প্রথম বাংলাদেশি ও মুসলিম নারী হিসেবে বিশ্বের ১৮৪টি দেশ ভ্রমণ করে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বিশ্বপরিব্রাজক নাজমুন নাহার। সর্বশেষ ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বাহামা সফরের মধ্য দিয়ে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।

এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য বাহামার ফার্স্ট লেডি প্যাট্রিসিয়া মিনিস নাজমুন নাহারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানান। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাহামা পৌঁছানোর মাধ্যমে তিনি ১৮৪তম দেশ ভ্রমণের ইতিহাস রচনা করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে গত বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে নাজমুন নাহার বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একটানা ভ্রমণ করেন। এ সময় তিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের সামোয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিমুর-লেস্তে, ক্যারিবীয় অঞ্চলের অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, দক্ষিণ আমেরিকার ভেনিজুয়েলা এবং সর্বশেষ বাহামা ভ্রমণ করেন।

২০০০ সালে ভারতের একটি আন্তর্জাতিক অভিযাত্রা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রমণ শুরু করেন নাজমুন নাহার। একক ভ্রমণকারী হিসেবে তিনি প্রধানত সড়কপথে বিশ্ব পরিভ্রমণ করে থাকেন। এই দীর্ঘ অভিযাত্রাপথে তাকে বহুবার ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এখনো যেসব দেশ ভ্রমণ বাকি রয়েছে, সেগুলো ঘুরে দেখার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

তার এই ব্যতিক্রমী অর্জন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইতোমধ্যে ভেনিজুয়েলার লা নাসিওন, ক্যারিবিয়ান ডব্লিউআইসি নিউজ, তিমুর-লেস্তের সুয়ারা তিমুর লোরোসা’য়ে, পর্তুগালের লুসাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তার ভ্রমণ কৃতিত্ব গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনে তাকে নিয়ে ফিচার প্রকাশিত হয়েছে।

ভেনিজুয়েলা সফরের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে নাজমুন নাহার বলেন,
“এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ভ্রমণ ছিল। সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে আমি ১৭টি শহর পরিদর্শন করেছি। আন্দিজ পর্বত, সবুজ উপত্যকা, নির্মল সমুদ্র, মরুভূমি ও স্থানীয় মানুষের উষ্ণতা ভেনিজুয়েলাকে এক অনন্য সৌন্দর্যের দেশে পরিণত করেছে।”

এর আগে ২০১৮ সালের জুনে জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি শততম দেশ ভ্রমণ সম্পন্ন করেন। ২০২১ সালের অক্টোবরে সাওটোমে ১৫০তম দেশ এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রিন্সিপে ভ্রমণের মাধ্যমে ১৭৫তম দেশের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।

নাজমুন নাহার ভ্রমণের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বাল্যবিবাহ বন্ধসহ বিভিন্ন সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশ্বব্যাপী তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পিস টর্চ বেয়ারার অ্যাওয়ার্ড, যুক্তরাজ্যের ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসহ ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।

নাজমুন নাহারের জন্ম বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ‘এশিয়ান স্টাডিজ’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এশিয়া’ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বর্তমানে তিনি একজন গবেষক, মোটিভেশনাল বক্তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্বজুড়ে শিশু ও যুবসমাজকে সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন এই সাহসী বাংলাদেশি নারী।

নাজমুন নাহারের এই অর্জন আগামী প্রজন্মের জন্য সাহস, অধ্যবসায় ও অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন