শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

নবীনগরে গাঁজা কেলেঙ্কারি, পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

নবীনগরে গাঁজা কেলেঙ্কারি, পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আনুমানিক ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১৬০ কেজি গাঁজা ২  পুলিশ সদস্য মাত্র ৭ লাখ টাকার ঘুষ এর  বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছারের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

পাশাপাশি পুরো ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

থানার একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নবীনগরের সোহাতা–রসুল্লাবাদ সড়কের কানাইবাড়ি মোড়ে এসআই জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে কনস্টেবল আবু কাউছার একটি পিকআপ ভ্যান থামান।

তল্লাশি চালিয়ে ভ্যানটিতে প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা পাওয়া গেলেও আশ্চর্যজনকভাবে এ বিষয়ে নবীনগর থানায় কোনো জব্দ তালিকা, মামলা নম্বর কিংবা আলামত সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়া যায়নি 

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা থেকে নবীনগর হয়ে ঢাকাগামী ওই পিকআপ ভ্যানে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল।

ঘটনার রাতে গাড়িটি আটক হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে ভিন্ন পথে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত আনিস নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এসআই জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছারের সঙ্গে দরকষাকষি হয়।

প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের গাঁজা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৭ লাখ টাকা ঘুষে সমঝোতা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের একটি অংশ নগদে এবং বাকি অর্থ ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়।

ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বিষয়টি দ্রুত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়। পরদিন ৬ জানুয়ারি অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে নবীনগর থানায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে হাজির করা হয়।

উপস্থিত একাধিক সূত্রের দাবি, সেখানে তারা ঘুষের টাকা লেনদেনের বিষয়টি মৌখিকভাবে স্বীকার করেন। পুরো ঘটনা চাপা দিতে নেওয়া ঘুষের অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নবীনগর থানার এসআই জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছারকে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রউফের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন,“শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে।”

১৬০ কেজি গাঁজা ও পিকআপ ভ্যানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন,“আমি ঘটনাটি একদিন পরে জানতে পারি। প্রথমে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তারা অনুমতি ছাড়া এবং কাউকে না জানিয়ে সেখানে গিয়েছিল। তদন্ত শেষে সব বিষয় পরিষ্কার হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন