মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনা: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি

মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনা: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। গত বছরের ২১ জুলাই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৭২ জন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ ও প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবিগুলো

পরিবারগুলো এই পাঁচ দফা দাবিতে জোর দিয়েছেন:

দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা – তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখিত পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি এবং স্কুলের বিল্ডিং কোড অমান্য করার দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করা। সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের (অব.) বিরুদ্ধে তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সেই টাকা উদ্ধার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান।

হাইকোর্টের রিট অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ – শহীদ পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য হাইকোর্টের রিট পিটিশনে উল্লেখিত রুল অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।

শহীদী মর্যাদা ও স্মরণিক নির্মাণ – নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ‘শহীদী মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান এবং তাদের স্মরণে মেমোরিয়াল বা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ।

জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস ও রক্ষণাবেক্ষণ – প্রতি বছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা, উত্তরায় আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং শিশুদের কবরের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা।

পুনর্বাসনের ব্যবস্থা – ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছেন, ২০২১-২০২৪ সালের মধ্যে বিমানবাহিনীর বাজেটে বিপুল অর্থ দুর্নীতি না হলে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা যেত। দুর্নীতির কারণে পাইলটসহ ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৭২ জন আহত হয়েছেন।

পরিবারগুলো মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিল্ডিং কোড অমান্যকেও হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আশরাফুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও রফিক মোল্লা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা জানান, ওই দিন দুপুর ১টা ১২ মিনিটে বিমানটি ক্যাম্পাসে আছড়ে পড়লে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা আগুনে পুড়ে ও দ্বিখণ্ডিত হয়ে প্রাণ হারান। অনেক দম্পতি একাধিক সন্তান হারিয়ে নিঃসন্তান ও নির্বংশ হয়ে পড়েছেন।

পরিবারগুলো জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গত ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে নিহতদের ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৪ ডিসেম্বর পরিবারগুলো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এছাড়া ২৯ ডিসেম্বর সংবাদপত্রে প্রকাশিত ১ কোটি টাকার সম্ভাব্য প্রস্তাবটিও তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পরিবারগুলোর দাবি, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও তদন্ত না হলে কোনোভাবেই ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায্য বিচারের ব্যবস্থা কামনা করেছেন।

পরিবারগুলো ইতিপূর্বে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন (নম্বর ১১৮৪২/২০২৫) এবং উপদেষ্টাদের দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, দুর্ঘটনার নেপথ্য তদন্ত, বিমানবাহিনীর দায়িত্বহীনতা ও স্কুলের অবহেলা ছাড়া কোনো ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসন দ্রুত কাজ করে নিহত ও আহতদের পরিবারদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করুন। তারা আশ্বস্ত হয়েছেন যে, দ্রুত পদক্ষেপ না হলে এই অনিশ্চয়তার মধ্যে পরিবারগুলো আরও ভোগান্তির সম্মুখীন হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন