বৃক্ষ সংরক্ষণে নতুন অধ্যাদেশ: অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা নিষিদ্ধ

দেশে বনভূমি জবরদখল রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশে কঠোর আর্থিক শাস্তি ও নিয়ম বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আইনটি জনসাধারণের জন্য গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে।
এই নতুন আইন অনুযায়ী:
অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ গাছ কেটে ফেললে ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা, প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
অনুমতি সাপেক্ষে গাছ কাটা হলে জরিমানা হবে ৫০ হাজার টাকা।
গাছের গায়ে পেরেক বা ধাতব বস্তু লাগিয়ে ক্ষতি করলে জরিমানা ২০ হাজার টাকা।
অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য হলো বনভূমির যথাযথ সংরক্ষণ, বনভূমি দখল প্রতিরোধ এবং বৃক্ষ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। এখন থেকে সরকারি বা গণ-পরিসরের যেকোনো গাছ কাটার আগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির বিশেষ প্রজাতির গাছ কাটার ক্ষেত্রেও বন বিভাগের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে:
কোনো প্রাকৃতিক বনভূমিকে বন-বহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয় প্রয়োজনে বনভূমি ব্যবহার করলে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বন সীমানা নির্ধারণ ও দখলদার উচ্ছেদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং করা হবে।
রোগাক্রান্ত, মৃত, ঝড়ে পড়া বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত বন অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার বিধান রাখা হয়েছে।
এই অধ্যাদেশ Forest Act, 1927-এর পরিপূরক হিসেবে কার্যকর হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতিযোগ্য বৃক্ষের পূর্ণাঙ্গ তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।