জমি বিক্রি করে মসজিদ নির্মাণ, নায়ক আলমগীরের অনন্য দৃষ্টান্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার গোপালপুর—একটি নিভৃত গ্রাম। যেখানে আজও নেই আধুনিক বসতঘর, নেই গাড়ি চলাচলের সুব্যবস্থা।
অথচ এই গ্রামেই জন্ম নিয়েছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি চিত্রনায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ আলমগীর।
পর্দার নায়ক হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন অসাধারণ, তেমনি বাস্তব জীবনেও রেখে গেছেন ত্যাগ, মানবিকতা ও ইমানদারির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল জন্ম নেওয়া আলমগীর ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর প্রযোজক কলিম উদ্দিন আহম্মেদ (দুদু মিয়া)-এর সন্তান।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি অর্জন করেছেন ৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তবে এসব অর্জনের বাইরেও নিজ গ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে তিনি রেখে গেছেন আরও বড় এক কীর্তি—নিজের পৈতৃক প্রায় ৯০ শতাংশ জমি বিক্রি করে স্থানীয় বাজারে একটি মসজিদ নির্মাণ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকারদের আগুনে পুড়ে যায় আলমগীরদের আট চালা বিশিষ্ট বিশাল বসতঘর। সেই জায়গায় আর কখনো ঘর ওঠেনি।
আজও সেটি শূন্য পড়ে আছে—নীরবে বহন করে যুদ্ধের স্মৃতি। কিন্তু সেই শূন্যতার মাঝেই আলমগীর গড়ে তুলেছেন ইমান ও মানবিকতার এক স্থায়ী স্থাপনা।
২০০২ সালে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে গোপালপুর বাজারের মসজিদটি দুইতলা ভবনে উন্নীত করেন।
শুধু স্থাপনা নির্মাণেই থেমে থাকেননি—আজীবন গ্রামের মানুষের খোঁজখবর রেখেছেন তিনি।
কেউ ফোন করলে সময় নিয়ে কথা বলেছেন, প্রতিবছর ঈদের সময় গ্রামের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়েছেন আর্থিক সহায়তা।
এমনকি কিছুদিন আগেও মসজিদের উন্নয়নের জন্য পাঠিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা।
গ্রামের অনেক মানুষ হয়তো তাকে কখনো চোখে দেখেনি।
কিন্তু তার কাজ, তার দান আর তার দায়বদ্ধতাই বলে দেয়—নায়ক শুধু রূপালি পর্দায় নয়, মানুষের হৃদয়েও জায়গা করে নেন।
এই গল্প শুধু একজন অভিনেতার নয়। এটি এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানের গল্প, এক নীরব দানবীরের গল্প, এবং নিজের শিকড়ের প্রতি আজীবন দায়বদ্ধ এক মানুষের অনন্য মানবিক ইতিহাস।