অনুমোদনহীন প্যাকেটজাত গরুর মাংসে সয়লাব রামগঞ্জ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে অবাধে আসছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)কর্তৃক অনুমোদনহীন প্যাকেটজাত গরুর গোশত। রামগঞ্জ চৌরাস্তা ও সোনাপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে রাস্তায় ২ বার সাধারন মানুষ এসব মাংস জব্দ করে পুলিশের কাছে সর্পদ করাও প্রমান রয়েছে।
বেশীরভাগ বড় বড় হোটেল ও বিরানির দোকানদাররা এর সাথে জড়িত গোপন সূত্রে এমন অভিযোগও পাওয়া যায়।
এ সব মাংসের উৎস চোরাই পথে ভারত থেকে আসা, হারাম পশুর মাংসের সাথে মিশ্রণ করা, মরা ও রোগাক্রান্ত্র গরুর মাংস হতে পারে এমন সন্দেহ রয়েছে সাধারন মানুষের মাঝে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হোটেল কর্মচারি ও মাংস ব্যবসায়ী জানান, এই মাংস গুলো বেশীরভাগ বড় বড় খাবার হোটেল ও কাচ্ছি বিরানি হাউজ গুলোতে রাখা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য থেকে আরো জানা যায়, হোটেল মালিকগন অধিক মুনাফার জন্য কম দামে এ সব মাংস কিনে বাজারের মাংসের সাথে মিশিয়ে তারপর রান্না করে বিক্রি করছেন। প্রশাসন এ ব্যাপারে তদারকি না থাকাকে দায়ী করছেন মানুষ।
রামগঞ্জ চৌরাস্তা এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এক বছর বেশী সময় আগে আমরা অনুমোদনহীন চোরাই পথে আসা প্যাকেট জাত তিন বস্তা গরুর মাংসসহ সিএনজি ও ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছি। পরে তারা পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও এই মাংস ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে তাদের ধরেও লাভ কি । তারা জানান, সোনাইমুড়ি ও হাজীগঞ্জ রোড দিয়ে বেশীভাগ সময় ভোর রাতে এ সব মাংস এসে থাকে ।
ফরিদ হোসেন, রফিকসহ কয়েকজন বলেন, প্যাকেটজাত গরুর মাংস নিয়ে সন্দেহের প্রধান কারণগুলো হলো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, গুণগত মান নিয়ে অনিশ্চয়তা (যেমন গরুর বদলে মহিষ বা শুকরের মাংস মেশানো), হালাল-হারাম সংক্রান্ত প্রশ্ন। যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে আমদানীকৃত সস্তা মাংসে এসব ভেজালের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে অনেকে আশঙ্কা করেন তারা। তারা বলেন, হোটেল মালিকরা গোপনীয় স্থানে এ সব মাংস রেখে, সময় মতো এনে রান্না করেন, এ ছাড়া বিরানির দোকান গুলি অন্যত্রে রান্না করে দোকানে এনে বিক্রি করছেন। তাদের রান্না স্থানটি অজানা থাকে। খাদ্যের সাথে এমন ভেজালের বিরুদ্ধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন জরুরি।
বাচ্ছু মিয়াসহ কযেক জন জানান, প্রশাসন কখনো হোটেলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচলনা করলেও বেশীরভাগ সময় বড় বড় হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে এড়িয়ে যান, তাঁরা ছোট ছোট হোটেল গুলিতে অভিযান দেন। এতে অগোছরে থেকে যায় বড় হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট গুলো।
রামগঞ্জ পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আলমগীর কবির জানান, এক থেকে ২ বছরের মধ্যে সোনাপুর ফায়ার সার্ভিসে সামনের রাস্তায় ও রামগঞ্জ চৌরাস্তায় ২ বার সাধারন মানুষ প্যাকেটজাত গরুর গোশত আটক করেন। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ খবর দিয়ে গোশতসহ তাদেরকে থানা দেওয়া হয়।
দৈএনকে/জে, আ