পূর্বাচলে জমকালো আয়োজনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (DITF) ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে স্থায়ী মেলা প্রাঙ্গণে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে এই মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
এবারের ৩০তম আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) ভবনে, যা আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্য প্রদর্শনী ও সম্মেলনের জন্য নির্মিত একটি আধুনিক স্থাপনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, বিদেশি কূটনীতিক ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে প্রযুক্তি পণ্য, লাইফস্টাইল সামগ্রী, হস্তশিল্প, ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পোশাকসহ নানা উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের মেলা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য পরিচিতি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
মেলার স্থায়ী এই ভেন্যুতে উন্নত অবকাঠামো, প্রশস্ত পার্কিং, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রদর্শনী হল এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় দর্শনার্থী ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
নতুন বছরের শুরুতেই পূর্বাচলে এই মেলার উদ্বোধনকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার জন্য ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মেলাটি চলবে মাসজুড়ে, যা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি করা হয়।
১৯৯৫ সাল থেকে যথারীতি বছরের প্রথম দিন থেকেই বসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ- চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) স্থায়ী ভেন্যুতে মেলার আয়োজন শুরু হয়। পূর্বাচলে এবার পঞ্চম বারের মতো মেলার এ আসর বসতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মেলা বসার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এবারের ৩০তম আসর বসেছে। বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এতে অংশ নিচ্ছে। দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি প্রতিবছর ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য শোভা পায় এ মেলায়।
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিংগেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।