এনইআইআর নিয়ে বিটিআরসিতে ভাঙচুর : নিরাপত্তা জোরদার

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালুর প্রতিবাদে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, এনইআইআর কার্যক্রম তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তায় প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত শুরু করেছেন। এই ঘটনা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এনইআইআর কার্যক্রমের বাস্তবায়ন ও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে আরও সচেতনতা এবং জনমত গ্রহণের প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষোভকারীরা ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এতে বিটিআরসির মসজিদের বেশ কয়েকটি কাচ ভেঙে যায়। ঘটনার সময় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামাজ আদায় করছিলেন। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হঠাৎ এই হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিটিআরসি ভবনের ভেতরে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা কালবেলাকে জানান, হঠাৎ করে রাস্তা থেকে কয়েকশ বিক্ষোভকারী ভবনের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এতে ভবনের বিভিন্ন অংশের কাচ ভেঙে যায়। ছুটি শেষ হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মকর্তারা ভবন থেকে বের হতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিটিআরসি এনইআইআর কার্যক্রম চালু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রিত ও স্টকে থাকা হ্যান্ডসেটের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সেই সময়সীমা শেষ হয়।