দূষণমুক্ত নববর্ষ নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি

ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ এবং সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থেকে দেশবাসীকে সুরক্ষা দিতে আতশবাজি, ফানুস ও পটকা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
রোববার (৩০ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, নববর্ষের আনন্দ উদযাপনের নামে আতশবাজি, পটকা এবং আকাশে ফানুস ওড়ানোর কারণে প্রতি বছরই বায়ুমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে উচ্চ শব্দের কারণে শব্দদূষণ বেড়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং ফানুস থেকে অগ্নিকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নববর্ষ উদযাপনকে নিরুৎসাহিত করা নয়—বরং তা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। এজন্য নাগরিকদের বিকল্প, সৃজনশীল ও দূষণমুক্ত উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নববর্ষের প্রথম প্রহরকে নিরাপদ ও সুন্দর করতে দেশবাসীকে আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, পারিবারিক উৎসব এবং সৃজনশীল উদযাপনের মতো পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশবিদরা বলছেন, দূষণমুক্ত উদযাপন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এটি একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, যা ভবিষ্যতে শহর ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে পর্যালোচনামূলক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আতশবাজি, ফানুস উড়ানো ও পটকা ফোটানো যাবে না।
এসব কর্মকাণ্ড বায়ু ও শব্দদূষণ ঘটায়, অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে এবং পাখির মৃত্যু ঘটায়।