লক্ষ্মীপুরে শীতের হাহাকার, আগুনই ভরসা খেটে খাওয়া মানুষের

লক্ষ্মীপুরে শীত যেন হঠাৎ করেই জেগে বসেছে। ভোর নামলেই ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় থমকে যাচ্ছে জনজীবন। কিন্তু কাজ থামে না খেটে খাওয়া মানুষের। শীতবস্ত্র না থাকায় একটু উষ্ণতার আশায় তারা ছুটছে আগুনের কাছে—এই আগুনই যেন এখন তাদের একমাত্র আশ্রয়।
ভোরের অন্ধকারে শহরের বাসস্ট্যান্ড, বাজার ও রাস্তাঘাটে দেখা যায় আগুন ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক, দিনমজুর ও হকারদের। পুরোনো কাঠ, খড়কুটো কিংবা আবর্জনা জ্বালিয়ে তারা শরীর গরম করার চেষ্টা করছেন। কেউ হাত বাড়িয়ে নিচ্ছেন আগুনের দিকে, কেউ আবার শীতে কুঁকড়ে যাওয়া শরীর একটু সোজা করতে চেষ্টা করছেন।
একজন দিনমজুর বলেন, “রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। কম্বল নেই। সকালে কাজে না এলে পেট চলবে না। তাই আগুন পোহানোই ভরসা।” তার চোখে ক্লান্তি আর কণ্ঠে অসহায়ত্ব স্পষ্ট।
শীতের এই তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারগুলো।
চিকিৎসকদের মতে, এই সময় সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা দরিদ্র মানুষের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়নি। অনেক অসহায় মানুষ দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকলেও সাহায্যের দেখা পাচ্ছেন না।
এই শীতে লক্ষ্মীপুরের খেটে খাওয়া মানুষের প্রার্থনা খুব ছোট—একটি কম্বল, একটু উষ্ণতা। কিন্তু সেই ছোট চাওয়াটুকুই যেন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিলাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।