বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

ভারত থেকে আটক দুইজনের মাধ্যমে হাদি হত্যার তদন্তে নতুন তথ্য

ভারত থেকে আটক দুইজনের মাধ্যমে হাদি হত্যার তদন্তে নতুন তথ্য
ছবি- সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, হত্যার পর মূল খুনিদের সীমান্ত পার করতে সহায়তা করার অভিযোগে ভারতের মেঘালয় থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

তদন্তে দেখা যাচ্ছে, খুনিদের বাংলাদেশের বাইরে পালানোর ক্ষেত্রে এই দুই ব্যক্তির সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ডিএমপি এই তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে খুনিদের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

মধ্যস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সীমান্ত পারাপারের জাল সূত্র নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার করা হবে। এছাড়া আটক ব্যক্তিদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পুরো চক্রের খোঁজ মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিএমপি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে তদন্ত সম্পূর্ণভাবে কার্যকর এবং মূল খুনিদের ধরতে সক্ষম হওয়া যায়।

আটককৃতরা হলেন মেঘালয় রাজ্যের বাসিন্দা পুত্তি এবং তার স্বামী। মূলত এই দম্পতিই বাংলাদেশি খুনিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে আশ্রয় ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীর অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে ফিলিপ ও সঞ্জয় নামের দুই ব্যক্তির মাধ্যমে তারা মেঘালয়ে পৌঁছান। এরপর পুত্তি ও তার স্বামী খুনিদের নিজেদের জিম্মায় নেন এবং সামি নামের এক ট্যাক্সি ড্রাইভারের সহায়তায় তাদের মেঘালয়ের ‘পুরা’ নামক একটি দুর্গম শহরে নিরাপদে পৌঁছে দেন। ডিএমপি এবং মেঘালয় পুলিশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক তথ্যের আদান-প্রদানের ভিত্তিতে এই দম্পতিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল একটি ব্লু-প্রিন্ট বা নিখুঁত পরিকল্পনা। খুনিরা ঢাকা থেকে সিএনজি ও প্রাইভেটকার বদলে হালুয়াঘাট সীমান্তে যায়। সীমান্ত পার হওয়ার পর ভারতীয় ভূখণ্ডে আগে থেকেই তাদের জন্য ‘রিসিভিং টিম’ অপেক্ষা করছিল। পুত্তি এবং তার স্বামী মূলত সেই রিসিভিং টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। পুলিশ সন্দেহ করছে, আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত পার হওয়ায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন ছিল, তবে ভারতীয় এই দম্পতিকে আটকের ফলে খুনিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওসমান হাদি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দেশে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ডিএমপি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। একইসাথে ভারতে পালিয়ে থাকা মূল খুনিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন