শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগ, যুবক গ্রেপ্তার
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর আতঙ্ক সৃষ্টি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মো. রুবেল (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাবেক প্রয়াত মন্ত্রী কে এম শাহজাহান কামালের এপিএস পরিচয়দানকারী শিমুল চক্রবর্তীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রুবেল এ অগ্নিসংযোগের কাজ করেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রুবেল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকার মৃত আবুল হাশেমের ছেলে। তিনি সদর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাকিমের ভাই এবং বিদ্যুৎ অফিসের সাবেক গাড়িচালক। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে পরিবারের সম্পৃক্ততার কারণে প্রায় তিন মাস আগে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চাকরিকালেই শিমুল চক্রবর্তীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

লিখিত বক্তব্যে এসপি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১ ডিসেম্বর বিকেলে রুবেল জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান। ওইদিন সন্ধ্যায় শিমুল তার বিকাশ নম্বরে দুই হাজার টাকা পাঠান। পরদিন ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রুবেল একটি হোটেল থেকে এক লিটার পানির বোতল কিনে পানি ফেলে দেন এবং স্টেডিয়ামের সামনে বেলালের দোকান থেকে এক লিটার পেট্রোল সংগ্রহ করেন।

গভীর রাতে মুখে মাস্ক পরে তিনি নির্বাচন ভবনের নিচতলার উত্তর পাশের স্টোররুমে জানালা খোলা পেয়ে সেখানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরান। পরে ব্যবহৃত বোতলটি ভবনের বাউন্ডারি প্রাচীরের ওপর দিয়ে ফেলে দেন। আগুন লাগানোর সময় তার ডান কানের নিচে ও ডান পাশের দাড়ির কিছু অংশ পুড়ে যায়।

পুলিশ আরও জানায়, রুবেল নিজের মোবাইল ফোনে আগুন লাগানোর দৃশ্যের ছবি তোলে, যা ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও ধরা পড়ে। সিসি ক্যামেরার বিষয়টি টের পেয়ে বাসায় ফিরে তিনি পরিহিত জামা-কাপড় আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। ঘটনার পর একই দিন বিকেলে শিমুল তাকে বিকাশে বাকি আট হাজার টাকা পাঠান।

গ্রেপ্তারের পর রুবেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের উত্তর পাশের নিচু জমি থেকে পেট্রোল বহনে ব্যবহৃত পানির বোতলটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার ব্যবহৃত স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছেন এবং তার মোবাইলে আগুন দেওয়ার সময় তোলা স্থিরচিত্র পাওয়া গেছে।

পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, রুবেলের মোবাইল ফোনের কথোপকথন বিশ্লেষণে জেলা খাদ্য গুদাম ও এলজিইডি অফিসে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনার তথ্যও পাওয়া গেছে। যেসব বিকাশ নম্বর থেকে তাকে অর্থ পাঠানো হয়েছে সেগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত নির্দেশদাতা ও অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন