পেঁয়াজ এখন সাধারণ মানুষের নাগালে

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়ায় দিনাজপুরের হিলি বাজারে পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম প্রায় ৪০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে, ফলে স্বস্তি ফিরেছে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও।
সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) হিলির পাইকারি বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, এক সময় ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ বর্তমানে মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে নিয়মিতভাবে পেঁয়াজ প্রবেশ করায় সরবরাহ বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে পরিবহন ব্যয় ও বাজার তদারকির ওপর দাম নির্ভর করবে বলেও মত তাদের।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর পেঁয়াজের দাম নাগালের মধ্যে আসায় রান্নার খরচ কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে হিলি পেঁয়াজ বাজার ঘুরে জানা যায়, চার দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি কমেছে ৪০ টাকা। পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় খুশি সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা।
গত শনিবার ভারত থেকে আমদানি করা যে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি। দাম কমে তা আজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি হিসেবে।
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (২৩ ডিসেম্বর) খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। এদিকে দেশি মুড়ি পেঁয়াজ দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি দরে। যা চার দিন আগে বিক্রি হয়েছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের।
পেঁয়াজ কিনতে আসা লুৎফর রহমান বলেন, পেঁয়াজের বাজার কমে গেছে। এক সপ্তাহ আগেও ১০০ টাকার কাছে পেঁয়াজ কিনেছিলাম। আজ ৪০ টাকা খুচরা দামে এক কেজি নিলাম।
রফিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজ একটা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্য। দাম কমলে আমাদের অনেক উপকার হয়। আজ বাজারে পেঁয়াজের দাম কম শুনে অনেকটা ভাল লাগছে।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ পাইকারি ব্যবসায়ী শাহাবুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ৭ তারিখ থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। বর্তমান পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে, তাই দামও কমে গেছে। প্রকারভেদে ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করছি। আশা করছি পেঁয়াজের আমদানি স্বাভাবিক থাকলে দাম আরও কমে যাবে।