শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

চারবার জানাজা পিছিয়েও দাফন হলো না বাবার

চারবার জানাজা পিছিয়েও দাফন হলো না বাবার
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধ এমন নির্মম রূপ নিয়েছে যে, এক হতভাগা বাবার জানাজা চারবার নির্ধারণ করেও আদায় করা যায়নি। দুই দিন ধরে লাশবাহী গাড়িতে পড়ে থাকলেও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে কারও মন গলেনি।

হাটহাজারী পৌরসভার সেকান্দর মঞ্জিল এলাকায় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ৭২ বছর বয়সী সেকান্দর মিয়া মারা যান। খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী শোক জানাতে এবং জানাজায় অংশ নিতে একাধিকবার জড়ো হলেও দাফন বিলম্ব হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে একে একে ফিরে যান তারা।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সেকান্দর মিয়ার প্রথম সংসারে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে এবং দ্বিতীয় সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় বত্রিশ বছর আগে তিনি প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন। এরপর থেকেই দুই সংসারের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

শনিবার সকাল ১১টায় বাড়ির ঈদগাহ মাঠে, দুপুর ২টায় নিজ বাড়ি সংলগ্ন মেখল বাদামতল এলাকায় এবং রোববার একই সময়ে জানাজা নির্ধারণ করা হলেও একাধিকবার বাধা দেওয়া হয়। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবারই জানাজা পেছাতে বাধ্য হন আয়োজকেরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত প্রথম সংসারের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও তার সন্তানদের দাবি—শরিয়ত ও আইন অনুযায়ী তালাক হলেও সন্তানদের পিতার সম্পত্তির অধিকার রয়েছে। তাদের অভিযোগ, দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের প্ররোচনায় সেকান্দর মিয়া তাদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন, যা আইনসম্মত নয়।

তবে ঘটনাস্থলের কিছু জমি বঞ্চিত পরিবার বিগত তিন বছর আগে দখলে নিয়ে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় সংসারের পরিবারের দাবি, সেকান্দর মিয়া জীবদ্দশায় সম্পত্তির একটি অংশ এক পুত্রকে প্রদান করেন। সেই জমি দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দাফনের অনুরোধ জানালেও কোনো পক্ষই প্রথমে ছাড় দিতে রাজি হয়নি। এক পক্ষের দাবি ছিল প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার স্ট্যাম্প আগে, অন্য পক্ষের দাবি—আগে দাফন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে মাগরিবের নামাজের পর মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু একজন বাবার শেষ বিদায়ের অধিকার কখনোই সম্পত্তির ঊর্ধ্বে হওয়া উচিত।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন