নবীনগরে চুরি সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ১, আটক ৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চুরি সন্দেহে গণপিটুনিতে শাহেদ আলি (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের কোনাউর গ্রামের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে চুরি সন্দেহে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম শাহেদ আলি (৬০)। তিনি মৃত বিল্লাত আলির ছেলে। তার বাড়ি নবীনগর উপজেলার ভোলাচং এলাকার মধ্যপাড়ায়। স্থায়ী ঠিকানা সেমন্তগর, বিদ্যাকুট ইউনিয়ন।
সে বর্তমানে নবীনগর পৌর শহরের পশ্চিম পাড়ায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) ভোরে শাহেদ আলি একটি বাড়িতে চুরি করার পর পাশের আরেকটি বাড়িতে শিঁদ কেটে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ঘরের লোকজন টের পেয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাকে ধরে ফেলে।
অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে ইকবাল মাস্টারের বাড়ির সামনে ইটের সলিংয়ের ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নবীনগর থানা পুলিশ খবর পেয়ে সকাল ৯ টায় মৃতদেহ উদ্ধার করে নবীনগর থানা নিয়ে আসে।
কিছু এলাকাবাসীর দাবি, শাহেদ আলি এর আগে দুইটি বাড়িতে চুরি করেন এবং তৃতীয় বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে
নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান,
“প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, শাহেদ আলি চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হন। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আলীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ঘটনার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।