হাটহাজারীতে এক সপ্তাহেই সড়কে ঝরেছে ছয় প্রাণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নারীসহ ছয়জন। অক্সিজেন–হাটহাজারী–নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের বুড়িপুকুর পাড়, চারিয়া, ফরহাদাবাদ, কাটিরহাট দরগাহ রোড ও লালিয়ারহাট মিস্ত্রি ঘাটা—এমন অন্তত ছয়টি স্পটে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটহাজারীর বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার হার। অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন অবহেলা, হেলমেট–সিটবেল্ট না পরা, অভিজ্ঞতাহীন চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং কুয়াশার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল—সব মিলিয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।
গত সোমবার ভোরে হাটহাজারী–অক্সিজেন সড়কের লালিয়ারহাট মিস্ত্রি ঘাটায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দেলোয়ার হোসেন (৩০)। তিনি ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের মতিননগর এলাকার মিরাজ মিয়ার ছেলে।
এর দুই দিন আগে শনিবার রাত ১টার দিকে বুড়িপুকুর পাড় এলাকায় চাঁদের গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত হন হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. এমরান চৌধুরী (৩৮)। তিনি মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া সিকদারপাড়ার বাসিন্দা।
গত শুক্রবার ভোরে ফরহাদাবাদ স্কুলের সামনে বিদেশগামী যাত্রীবাহী হাইএসের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান পিকআপচালক মো. কাউসার (২৯)। তার বাড়ি ফটিকছড়ির নারায়ণহাট এলাকায়।
বৃহস্পতিবার কাটিরহাট দরগাহ রোডে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মো. আব্দুর রাজ্জাক (৬৩) পিকআপের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি ছিলেন ফটিকছড়ির সাদেকনগর এলাকার বাসিন্দা।
এ ছাড়া গত বুধবার সকালে মির্জাপুরের চারিয়া মাদ্রাসার সামনে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, রাস্তা পার হওয়ার সময় কোনো যানবাহনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়।
মাসের প্রথম দিন ফরহাদাবাদের মুছাবিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলকে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত হন মোহাম্মদ কাঞ্চন (২০), যার বাড়ি ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়নে।
নাজিরহাট হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক শাহাবুদ্দিন জানান, মোট পাঁচটি দুর্ঘটনার তিনটির মামলা হয়েছে এবং বাকি দুটির প্রক্রিয়া চলমান। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন জব্দ করে হেফাজতে রাখা হয়েছে।