লক্ষ্মীপুরের পোদ্দার বাজারে চলাচলে চরম বিঘ্ন: সিসি ঢালাই কাজ বন্ধ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যকেন্দ্র পোদ্দার বাজার দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর সদর ও নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বিশাল অংশজুড়ে বিস্তৃত এই বাজারই লাখো মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়–বিক্রয় ও জীবন জীবিকার প্রধান কেন্দ্র। দীর্ঘদিন আগে বাজারের মূল সড়কের ওপর নির্মিত একমাত্র ব্রীজটি ভেঙে পড়লে যাতায়াত এবং মালামাল পরিবহনে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়।
ব্রীজটি পুনর্নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতার পর কিছুদিন আগে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু হলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে আশার আলো আরও জ্বলে ওঠে। কিন্তু বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—মূল সড়কের সিসি ঢালাইয়ের কাজ—দুই মাস ধরে বন্ধ থাকায় সেই আশা আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের মূল সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় রয়েছে। সিসি ঢালাইয়ের জন্য বাঁধাই করা লোহার ছকগুলো সড়কের ওপর ফেলে রাখা। চলাচল করতে গিয়ে ব্যবসায়ী, ক্রেতা, পথচারী, এমনকি বাইকারদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় পণ্য আনা–নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে।
সকাল-বিকেল বাজারের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পাইকারি মালামাল বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। এতে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিনই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সিসি ঢালাই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের অবহেলা, মনিটরিংয়ের ঘাটতি ও কাজের ধীরগতি এ দুর্ভোগের মূল কারণ।
তারা বলেন- “বাজারের এত বড় সড়ক দুই মাস ফেলে রাখা হয়েছে। ঠিকাদার আসেন না, কাজ করেন না। আমরা প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছি।
অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি কাজে মোটেও গতি আসছে না। কর্মপরিকল্পনায় ঘাটতি থাকায় কাজ বারবার বন্ধ হয়ে পড়ছে।
পোদ্দার বাজার শুধু একটি ইউনিয়নের নয়—রামগঞ্জ, সদর ও চাটখিল মিলিয়ে বিশাল অঞ্চল এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসে কাপড়–চোপড়, খাদ্যপণ্য, মাছ–মাংস, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে।
মালামাল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন দোকানদারদের স্টক নেই। ক্রেতারা নিত্যপণ্যের সংকটে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বাজারের ক্রেতাদের একটাই দাবি—অব্যাহত কাজ, দ্রুত সিসি ঢালাই এবং চলাচলের উপযোগী সড়ক।
এলাকার মানুষ প্রত্যাশা করছেন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর নজরদারি বাড়াবে এবং ঠিকাদারকে কাজে বাধ্য করবে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও দুর্ভোগ চরমে ওঠার কারণে সবাই চান—এই সড়ক দ্রুত সম্পূর্ণ হোক, যাতে পোদ্দার বাজার আবার তার আগের প্রাণ ফিরে পায়।