৩ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারের দুই মাসেই উঠে যাচ্ছে পাথর

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার জোড় কবরস্থান থেকে সোনাপুর পর্যন্ত প্রধান সড়কটি ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের ২ মাস যেতে না যেতেই উঠে যাচ্ছে পাথর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ছাড়াই ঠিকাদার নিম্নমানের পাথরসহ নির্মান সামগ্রী দিয়ে ঢালাই কাজ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, রামগঞ্জ পৌরসভা ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় লোকাল গভর্মেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) অর্থায়নে রামগঞ্জ জোড় কবরস্থান থেকে সোনাপুর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কটি আরসিসি সংস্কারের টেন্ডার আহবান করে। বরাদ্ধ ৩ কোটি ১৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। কাজটি পায় মেসার্স খোরশেদ আলম নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজটি করেছেন আজিজুর রহমান বাচ্ছু মোল্লা। কাজটি শেষ হয় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে।
জানা যায়, সাব ঠিকাদার আজিজুল রহমান বাচ্ছু মোল্লা তিনি আরো কয়েকজন রাজনীতিক নেতাকে সাথে নিয়ে পৌরসভার প্রকৌশলীদের যোগসাজশে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি কাজটি করেছেন। তখন কাজটির অনিয়ম নিয়ে কয়েকটি অনলাইন মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেইসবুক) প্রচুর লেখালেখি হয়। কিন্তু কোন কিছুর তোয়াক্ক করেননি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৭ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির ৭ থেকে ১০টি স্থানে সিমেন্ট- বালু সরে গিয়ে পাথর গুলো ভেসে রয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের দুপাশের গাইড ওয়ালের ইট ভেঙ্গে গেছে।
এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন- প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে শত শত ছোট বড় যানবাহন চলাচল করে। এটি পুরো রামগঞ্জবাসীর জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু সড়কটির সংস্কার কালে পৌরসভার প্রকৌশলীরা তদারকিতে গাফলতি করায় ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ও বৃষ্টির মাঝে কাজটি করেন।
ফলে কাজটি শেষ করার ২ মাস যেতে না যেতেই পাথর গুলো ভেসে উঠেছে, বিভিন্ন স্থানে পাথর সরে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হয়। তারা আরো বলেন- এখনি কাজটি পূর্ন সংস্কার করা না হলে, কয়েকমাস পর সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
জনদূর্ভোগ বেড়ে যাবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাজে কাজটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন সড়কের কয়েক স্থানে হাত দিয়ে পাথর ভেসে থাকা ও উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখান।
সাব ঠিকাদার আজিজুর রহমান বাচ্ছু মোল্লা জানান- সড়কটির ঢালাই চলাকালিন বৃষ্টির পানিতে ও মানুষ হাঁটার কারনে আয়েশা রেস্টুরেন্ট হোটেলের আশপাশে কয়কটি স্থানে পাথর দেখা যাচ্ছে। গর্ত গুলো মানুষের পায়ের দাগ। গাইড ওয়ালে ইট যদি না থাকে ফাইনাল বিল হওয়ার আগে করে দেওয়া হবে। আমাদের কাজে আর কোথাও অভিযোগ নাই।