সন্দ্বীপে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে নারীর জন্য নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত ডিজিটাল জগৎ গড়ার লক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) সন্দ্বীপ কেন্দ্রের উদ্যোগে এনাম নাহার মোড় থেকে এ র্যালি বের হয়ে মোড় এলাকায় আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এনাম নাহার মোড় কমিউনিটি ফোরামের সভাপতি মাস্টার আবুল কাশেম শিল্পী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপিএস সন্দ্বীপ কেন্দ্রের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার শাহেনা বেগম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের ব্যবস্থাপক মো. শামসুদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিজেরা করি সন্দ্বীপ অঞ্চল প্রধান মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মহিউদ্দিন এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সন্দ্বীপ শাখার সভাপতি ইলিয়াছ সুমন। বক্তব্য দেন নারীগোষ্ঠীর তৃণমূল দলের সদস্য নারগিস বেগম, জোহরা বেগম ও লিনা রানী।
বক্তারা বলেন, জাতিসংঘের তথ্যমতে বিশ্বে প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে সহিংসতার শিকার হন। বর্তমানে এর নতুন রূপ ডিজিটাল সহিংসতা, যা অনলাইন ট্রলিং, যৌন হুমকি, মিথ্যা তথ্য প্রচার, গোপন ছবি প্রকাশ, এআই–তৈরি ডিপফেক ভিডিওসহ নানা উপায়ে নারীর জীবনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে। এতে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সীমিত হচ্ছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ।
বক্তারা আরও বলেন, ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে ২০২৫ সালের ইউনাইট ক্যাম্পেইনের প্রতিপাদ্য “UNITE to End Digital Violence against All Women and Girls”— বৈশ্বিকভাবে নারীর জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে—
সরকারকে ডিজিটাল সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে;
নারীর গোপনীয়তা সুরক্ষা ও ডিজিটাল শিক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে হবে;
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ‘সেফটি বাই ডিজাইন’ নীতি মেনে নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে;
সিভিল সোসাইটি ও দাতা সংস্থাকে নারীর ডিজিটাল অধিকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে;
প্রতিটি উপজেলায় সাইবার সাপোর্ট সেন্টার চালু করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ/নারী পুলিশ নিয়োগ দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, নারীর জন্য নিরাপদ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়তে রাষ্ট্র, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। প্রত্যেককে সম্মানজনক অনলাইন আচরণে অভ্যস্ত হয়ে ডিজিটাল সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।