সন্দ্বীপের ডোবাচরে আমনের বাম্পার ফলন

সোনালি রঙের পাকা ধানে নুয়ে পড়েছে সন্দ্বীপের দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নে জেগে ওঠা ডোবাচর। মাঠজুড়ে এখন ধান কাটার ব্যস্ততা; কেউ কাটছেন, কেউ তুলে স্তূপ করছেন, আবার কেউ ট্রাক্টরে বোঝাই করে ঘরে তুলছেন ফসল। কৃষকদের হিসাব, চরের প্রায় ৫০০ কানি আবাদি জমিতে এবার উৎপাদিত হবে অন্তত ৩০ হাজার মণ বা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন ধান। তাঁদের ভাষায়—এটি ‘বাম্পার ফলন’।
কৃষকদের জানান, ডোবাচরে এবারই প্রথম এত ব্যাপক আকারে আমনের চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষে ভালো ফল পাওয়ায় এ বছর আবাদ বেড়েছে বহুগুণে। আগামীতে চাষাবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা। তবে বাম্পার ফলন হলেও কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাদের দেখা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চাষিরা।
শ্রমিক সংকট মারাত্মক
কৃষকেরা বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে তাঁদের। পাশের সবুজচরের প্রায় চার হাজার কানি জমিতেও এখন ধান তোলা হচ্ছে, ফলে ডোবাচরে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক হাজার কৃষিশ্রমিকের প্রয়োজন হলেও মিলছে না পর্যাপ্ত শ্রমিক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পরিবহন সংকট। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের এ চরে কোনো সড়ক নেই—ট্রাক্টরই একমাত্র ভরসা।
কৃষকদের ভাষ্য, ‘ট্রাক্টর বারবার চলাচল করেই রাস্তা তৈরি করছে। এগুলো ছাড়া উপায় নেই। ধান দ্রুত ঘরে তুলতে না পারলে লঘুচাপ বা বৃষ্টিতে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’
নতুন চর, নতুন সম্ভাবনা
ডোবাচরের এই ফলন নজর কাড়ছে সন্দ্বীপের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকদেরও। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে সমুদ্রে বিলীন হওয়া বাটাজোড়া, কাটগড়, হুদ্রাখালী এলাকার অংশ নিয়ে জেগে ওঠা এই নতুন ভূমিতে এখন আমনের চাষে ফিরেছেন পূর্বের বাসিন্দারা। কেউ কেউ অর্ধশত বছর পর সেখানে আবার বসতি গড়ছেন। ধানক্ষেতের আল ধরে হাঁটলে পা ছুঁয়ে ধানের ঝনঝন শব্দ—পুরো এলাকাজুড়ে এক অন্যরকম প্রাণের স্পন্দন।
কৃষি বিভাগের উদ্যোগ
সবুজচর ও ডোবাচরে গত দুই বছর ধরে চাষাবাদ চললেও এবারই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আমন ধান আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন জানান, “এ বছর তিন হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে ২.৫০ মেট্রিক টন ফলন মিলেছে।”
তিনি আরও বলেন, আমন কাটার পর এসব জমিতে ডাল ও সরিষার আবাদ বাড়ানোর জন্য কৃষি অফিস উদ্যোগ নিয়েছে।
ডোবাচরের এ সাফল্য স্থানীয় কৃষিতে নতুন আশা জাগালেও শ্রমিক সংকট ও দুর্বহ যোগাযোগব্যবস্থা এখনো সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়ে গেছে।