বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

রামগঞ্জে নার্সিং প্রশিক্ষণের নামে প্রতারণার অভিযোগ

রামগঞ্জে নার্সিং প্রশিক্ষণের নামে প্রতারণার অভিযোগ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে “উদ্যোক্তা এডুকেয়ার মেডিকেল সার্ভিস’’ নামের একটি সংস্থার আড়ালে নার্সিং প্রশিক্ষণের নামে যুবক ও যুবতীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। 

প্রশিক্ষণ, ভাতা,সার্টিফিকেট প্রদান এবং কর্মসংস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি, বই, ড্রেস, মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি ক্রয়ের নামে মুশিউর রহমান ফিরোজ নামে এক ব্যক্তি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে ক্ষতিগ্রস্থ বেকার যুবক-যুবতীরা জানায়। 

অভিযুক্ত মুশিউর রহমান রামগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা ফেরদৌসীর স্বামী ও নোয়াখালী জেলার মাইজদি পৌরসভার বাসিন্দা।  তিনি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি সূচীপাড়া ডিগ্রী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। 

বুধবার দুপুর ১২ টায় উদ্যোক্তা এডুকেয়ার মেডিকেল সার্ভিস সংস্থায় সরেজমিনে গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। 

জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই মাসে মোঃ মুশিউর রহমান রামগঞ্জ দক্ষিন বাজার ওয়াপদা কলোনীর সাথে একটি ভবন ভাড়া নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, ডিজিটাল মার্কেটিং, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, খাবার হোম ডেলিভারি, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমাজের বেকার যুবক-যুবতীদের ট্রেনিং ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কথা বলে “উদ্যোক্তা এডুকেয়ার মেডিকেল সার্ভিস’’ নামের এ  সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু করেন। 

শুরুতে ৩ মাস মেয়াদে নার্সিং প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেন। ভাতা ও সরকারি রেজিষ্ট্রেশন সহ সার্টিফিকেট প্রদান এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেইসবুক, হোয়াটসপ গ্রুপে, লিফলেট বিতরণ ও ফেস্টুন লাগিয়ে প্রচার প্রচারনা করেন। সেই ফাঁদে পা দিয়ে ৭০ জন  যুবক ও যুবতী ভর্তি হয়। তিনি ভর্তিকৃত প্রতিজনের কাছ থেকে ভর্তি  ফি ৫শত, বই ক্রয় বাবত ৫শত এবং  ড্রেস ও মেডিকেল  সরঞ্জামাদি ক্রয় বাবত ৬ হাজার করে মোট ৭ হাজার টাকা করে নেয়। পরে তিনি মোসাঃ নুর নাহার নামে একজন প্রাইভেট হাসপাতালের নার্সকে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। নিজেও ক্লাশ নেন। এতে ভর্তিকৃতরা তাঁর প্রতারণা বুজতে পেরে ৬০ জন চলে যায়। বর্তমানে তিনি দুপুর ও রাতের খাবার হোম ডেলিভারী দেওয়ার নামে উদ্যোক্তা সংগ্রহে লিফলেট বিতরণ করে প্রচার প্রচারণা করছেন।  

ভর্তিকৃত লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ছাত্রী রাহাতেন নেছা জুই, মাঝিরগাঁও গ্রামের 
শামিমা নাসরিনসহ কয়েকজন জানান, নার্সিং প্রশক্ষিণ নিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আশা নিয়ে ভর্তি হই। স্যারের কথা অনুযায়ী আমরা বেশীভাগ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তিফিসহ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা করে দিয়েছি। কিন্তু তিনি কোন প্রশিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে নিজে এবং নুর নাহার নামের একজন নার্সকে দিয়ে সপ্তাহে ২ দিন করে ক্লাশ নেন। প্রত্যেককে ২শত টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দিচ্ছেন না। বরং ছাত্রছাত্রীদেরকে অফিস রুমে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে টাকা বিনিয়োগ চায়। এতে প্রতারণা বিষয়টি বুঝে আস্তে আস্তে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাশে ছেড়ে চলে যায়। স্যার( মো: মুসিয়ুর রহমান ) প্রতারণা করে টাকা-পয়সা, সময় নষ্ট করে আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন। 

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, ফারুক হোসেন, বাসিন্দা ফরিদ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, মোঃ মুশিউর রহমান নোয়াখালী জেলার মাইজদি পৌরসভার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ও রামগঞ্জ শিক্ষা অফিসারের স্বামী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদেরকে বিভিন্ন  প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। এ সব কথা বলায় আমরা তাকে সহযোগিতা করছি। কিন্তু তিনি ভিতরে ভিতরে যে প্রতারণা করছেন। তা আমাদের জানা নাই। আমরা প্রশাসনের নিকট তাঁর বিষয় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করছি।
প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগকৃত নার্স নুর নাহার জানান, মোঃ মুশিউর রহমান আমাকে ২০ হাজার টাকা করে বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে  শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। ২ মাস আমি চাকরি করি। কিন্তু তিনি আমাকে ঠিক মত বেতন দেননি, বরং আমার কাছে মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ হিসেবে চান। এবং তিনি ছাত্রছাত্রীদের সাথে টাকা পয়সা নিয়ে প্রতারনা করছেন। তাই আমি নিজ থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে আসছি। 

মোঃ মুশিউর রহমান ফিরোজ জানান, নাসিং প্রশিক্ষণসহ আমার প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র আছে। নার্সিং প্রশিক্ষণে যারা ভর্তি হয়েছে। তাদেরকে ভাতা দেওয়া বন্ধ করায় অনেক ছাত্রছাত্রীরা আসছে না। বর্তমােেন ৭ জন ছাত্রী আছে। মেডিকেল সরঞ্জামাদি ,ভর্তি ,বই কেনার জন্য টাকা নেওয়াটা সত্য, তাদেরকে ওই টাকার মালামাল দিয়েছি। কারো অভিযোগ থাকলে সরাসরি যোগাযোগ করতে বলবেন।  
রামগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা ফেরদৌসী জানান, মোঃ মুিশউর রহমান আমার স্বামী , তিনি শাহারাস্তিতে একটি মাদ্রসার শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে ব্যবসা করেন। তবে নার্সিং প্রশিক্ষণের বিষয়টি আমার জানা নাই। আমি তার সাথে যোগাযোগ করে জানাবো। 

রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ার হোসেন জানান, কেউ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত নার্সিং বা মেডিকেল সার্ভিস প্রশিক্ষণ কোন সংস্থা দিতে পারেন না। এ বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা তদন্ত করে  যদি অবৈধ হয়ে থাকে আইনানুগ ব্যবস্থা  নিব। 

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম জানান, অত্র উপজেলায় আমি একেবারে নতুন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান যদি থেকে থাকে, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন